• শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল শহিদ মাতঙ্গিনীর বিদ্যালয়
    বর্তমান | ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগে শনিবার অভিভাবক ও বাসিন্দাদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল শহিদ মাতঙ্গিনীর জামিট্যা আদর্শ বিদ্যালয়। পুজোর ছুটির পর এদিনই স্কুল খোলে। গণ্ডগোলের আশঙ্কা থাকায় ৪৫০জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে মাত্র তিনজন এসেছিল। সকাল ১০টা থেকেই অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ১০টা থেকেই স্কুলের গেটের সামনে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ। এনিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করার জন্য ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। বার্ষিক পরীক্ষার নম্বর কেটে দেওয়ার হুমকিও জুটেছে। 

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলগেটে বিপুল জমায়েত হয়। দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। খবর পেয়ে তমলুক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই ছাত্রীর মাও স্কুলে যান। ফোনে ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের ভয়েস রেকর্ডিং ছিল। এলাকার বাসিন্দারা এনিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি অভিযোগ জমা করেন। ছাত্রীর মা প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ জানান।

    অভিযুক্ত শিক্ষক ২০০২সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশ করে স্কুলে জয়েন করেন। একসময় তিনি স্কুলের টিচার ইনচার্জও ছিলেন। তাঁকে নিয়ে স্কুলে শিক্ষকদের মধ্যেও বিভাজন রয়েছে। প্রাক্তন টিচার ইনচার্জ হওয়ার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি স্কুলে দাপট দেখান বলে অভিযোগ। অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রী মেধাবী এবং দুঃস্থ। তাকে আর্থিক সহায়তা করে ওই শিক্ষক বিভিন্ন সময় বেড়াতে নিয়ে চলে যেতেন। এমনকী, মাঝেমধ্যে বাড়িতে চলে আসতেন। এনিয়ে কানাঘুষো চলত। পুজোর ছুটির আগে এনিয়ে ওই ছাত্রীর পরিবারও সতর্ক হয়। তারা শিক্ষকের আচরণ নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য‌ এবং কয়েকজন অভিভাবককে জানান। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হওয়ার পরই ওই ঩শিক্ষক হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

    এদিন ওই ছাত্রীর মাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা ও অভিভাবকরা স্কুলে জড়ো হন। তাঁরা গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান। স্কুলের শিক্ষকরা গেটের বাইরে নিমগাছের তলায় বসেছিলেন। অভিযুক্ত শিক্ষকও এদিন স্কুলে এসেছিলেন। কিন্তু, পরিস্থিতি দেখে তিনি গাঢাকা দেন। তিন ছাত্রছাত্রী নিয়ে এদিন আর ক্লাস হয়নি। প্রধান শিক্ষক অতীশ পট্টনায়েক বলেন, আমাদের স্কুলে ম্যানেজিং কমিটি নেই। তমলুক গ্রামীণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রশাসক হিসেবে আছেন। বিষয়টি তাঁকে জানাব। 

    পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী তন্ময় গুড়িয়া বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে বেপরোয়া আচরণ করছেন। ২০২৪সালে ১১নভেম্বর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। যদিও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি বিষয়টি কার্যকর করেনি। ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন ওই শিক্ষক। ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

    নিগৃহীতা ছাত্রীর মা বলেন, ওই শিক্ষক প্রায়ই আমার মেয়েকে ফোন করতেন। বাড়িতে কেউ না থাকার সময় তিনি আসতে চাইতেন। বিষয়টি মোবাইলে ভয়েস রেকর্ডিং আছে। আমি কয়েকজনকে জানানোর পর এদিন স্কুলে বিক্ষোভ প্রতিবাদ হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, একসময় আমি স্কুলে টিচার ইনচার্জ ছিলাম। ওই ছাত্রীর সঙ্গে আমার ভালো যোগাযোগ ছিল। কিন্তু, খারাপ আচরণ করিনি।
  • Link to this news (বর্তমান)