নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন। ছট উৎসবকে সামনে রেখে অবাঙালিদের কাছে পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস। ছটের ডালা ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ থেকে শুরু করে ছটঘাট সংস্কার নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের তৎপরতা দেখা গিয়েছে। প্রতি বছরই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ছট উৎসব পালন ঘিরে রাজনৈতিক নেতাদের তৎপরতা দেখা যায়। এবারও সেই তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। শাসকদলের জেলা সভাপতি থেকে বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এলাকায় ঘুরে ছটের সামগ্রী বিতরণ করছেন। জনসংযোগ বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন। উৎসবে অংশ নিতে আসানসোলে আসছেন তৃণমূলের সেলিব্রিটি সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। ‘বিহারীবাবু’ বিহারের ছটে অংশ নেওয়ার আগেই আসানসোলে এসে নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষের সঙ্গে মিলিত হবেন।
অবাঙালি ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানতে ময়দানে নেমেছেন বিজেপি বিধায়ক ও নেতারা। কখনও শাসকদল ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ তুলছেন। কখনও আবার নিজেরা ছটের সামগ্রী বিতরণ করে জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বরাকরে ছটঘাট সংস্কার নিয়ে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে তরজাও শুরু হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ন’টি বিধানসভা এলাকাতেই বহু অবাঙালি ভোটার রয়েছেন। বিশেষ করে কুলটি, আসানসোল দক্ষিণ, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া বিধানসভা এলাকায় অবাঙালি ভোটই জয়-পরাজয়ের ‘ডিসাইডিং ফ্যাক্টর’। কয়েক মাস পর বিধানসভা নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দলই অবাঙালি ভোটারদের মন পেতে মরিয়া। ভোট নিশ্চিত করতে ছট উৎসবেই নিজেদের কাছের মানুষ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে সব শিবির। আসানসোল ও দুর্গাপুর পুরসভা ছটঘাটগুলি সংস্কার ও সাজিয়ে তুলতে বাড়তি তৎপর। তাদের জনপ্রতিনিধি থেকে প্রশাসনিক কর্তারা বারবার এলাকা পরিদর্শন করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে বলে বোঝাতে মরিয়া শাসকদলের জনপ্রতিনিধিরা। বিভিন্ন ছটঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব অস্থায়ী অফিস করা হয়েছে। ছট পালন করা মানুষজনকে সাহায্য করতেই তাদের এই উদ্যোগ।
কুলটির বরাকরে নদীতে ছটঘাট করা নিয়ে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে তরজা শুরু হয়েছে। শাসকদলের দাবি, পুরসভার উদ্যোগে এই ঘাট সংস্কার করে নতুন রূপে তৈরি করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, কুলটির বিধায়ক অজয় পোদ্দারের উদ্যোগে এই কাজ হয়েছে। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকাজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বহু মানুষের হাতে ছটের সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারির অভিযোগ, নরেন্দ্রনাথবাবুর বালির ঘাটে যাতায়াতের যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য অজয় নদে ছটের ঘাট করতে দেওয়া হচ্ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি সরব হয়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, দুর্গোৎসব দীপাবলি ও ঈদের পাশাপাশি ছট উৎসবেও আমরা মানুষের পাশে থাকি। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষা। বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার বলেন, অবাঙালি মানুষজন জানেন কারা প্রকৃতপক্ষে তাঁদের পাশে থাকেন।