• বড়মার বিসর্জনে জনজোয়ার তকিপুরে আউশগ্রামে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি পুলিশের
    বর্তমান | ২৬ অক্টোবর ২০২৫
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: আউশগ্রামের তকিপুরে বড়মা কালীর বিসর্জনে শনিবার ব্যাপক ভিড় হয়। সায়রের চারপাশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। নির্ঘণ্ট মেনেই এদিন বেলায় মায়ের বিসর্জন করা হল। রাজকীয় বির্সজন পর্বে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ অফিসার, সিভিক ভলান্টিয়ার মিলিয়ে মোট ১৩০জন মোতায়েন ছিলেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও স্পিডবোট নিয়ে দিঘিতে মোতায়েন ছিল। পুলিশ ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালায়। আউশগ্রাম-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, সুষ্ঠুভাবেই তকিপুরের বড়মা কালীর বিসর্জন পর্ব মিটেছে। 

    তকিপুরের বড়মার বিসর্জনই এলাকাবাসীর মূল আকর্ষণ। নিয়ম মেনে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার একদিন পর বড় কালীর বিসর্জন করা হল। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সতর্ক ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। দুর্ঘটনা এড়াতে দিঘির পাড়েই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল মেডিকেল টিম ও দমকল বাহিনী। বিসর্জন দেখতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। জানা গিয়েছে, প্রতি বছর তকিপুরের বড়মা কালীর পুজোর দিকে নজর থাকে সবার। বিশেষ করে মায়ের বিসর্জন পর্ব দেখতে প্রতি বছরই ভিড় জমান ভক্তরা। বিসর্জন নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনও উদ্বেগে থাকে। শোনা যায়, বর্ধমানের মহারাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেছিলেন। জঙ্গল থেকে দেবীকে উদ্ধার করে এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। প্রায় ২০ফুট উচ্চতার এই বড় কালী মাকে ঘিরেই আউশগ্রাম, মঙ্গলকোট, ভাতার ও গলসির মানুষজনের আলাদা আবেগ রয়েছে।

    এবারও বিসর্জন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান। মন্দির লাগোয়া দিঘিতেই মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়। মূল কাঠামোর নীচে চাকা লাগানো থাকে। তা দড়ি দিয়ে বেঁধে টানতে টানতে ভক্তরাই দিঘির কাছে নিয়ে আসেন। মাকে বিদায় জানাতে শুধু দিঘির চারপাশ নয়, আশপাশের বাড়ির ছাদ, গাছের মগডালেও অনেকে উঠে পড়েন। দিঘির চারদিকে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বিসর্জন ঘিরে একদিনের মেলাও বসে। বাঁশের বড় ব্যারিকেড করেও ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খান পুলিশকর্মীরা। আউশগ্রাম থানার আইসি, ডিএসপি(ডিঅ্যান্ডটি) সহ পুলিশ অফিসাররা হাজির ছিলেন।

     আউশগ্রামের তকিপুরের বড় কালীমায়ের বিসর্জনে জনপ্লাবন। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)