• নন্দীগ্রামে মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির ভোটে জয়ী তৃণমূল, মুখ থুবড়ে পড়ল বাম-কং-আইএসএফ জোট
    প্রতিদিন | ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া: বিজেপির ভোট ষড়যন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ল। সিপিএম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট শক্তি বিজেপির ইন্ধনে কোমর বেঁধে ভোটযুদ্ধে নামলেও তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশেলে কুপোকাত। এই মাদ্রাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ধারা। রবিবার নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের মহম্মদপুর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির প্রতিনিধি নির্বাচনে বিরোধীশূন্য বোর্ড দখল করে শেষ হাসি হাসলো তৃণমূল কংগ্রেস। মোট আসন ছিল ৬ টি । সবকটি আসনে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা। জয়ী প্রার্থী কামালুজ্জামান আলি শা, মহম্মদ হাসানুজ্জামান মল্লিক, সাবিনা খাতুন, শেখ আইনুর রশিদ, শেখ আমিরুল ইসলাম এবং শেখ মুশিয়ার রহমান।

    জানা গিয়েছে, এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করতে সিপিএম ,কংগ্রেস এবং আইএসএফ‌ জোট শক্তি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল । সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা বলে বিজেপির তরফে কোন প্রার্থী ছিল না। তবে বিজেপি পিছনে থেকে যাবতীয় সহযোগিতা করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও সিপিএমের নন্দীগ্রাম উত্তর এরিয়া কমিটির সম্পাদক মহাদেব ভূঁইয়া জানান,”কোন জোট শক্তি না। আমরা এককভাবে লড়াই করেছি। তবে ওরা অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস কিছু প্রক্সি ভোট পেয়ে জয় সুনিশ্চিত করেছে । তবুও আমরা লড়াই করতে ভয় পাইনি । মানুষ যা রায় দিয়েছে সেটাই মাথা পেতে নিয়েছে।” মানুষের রায় মেনে নিতেই হবে । কারণ মানুষ সিপিএমের পক্ষে নেই বলে তৃণমূল শিবিরের কটাক্ষ। এ বিষয়ে স্থানীয় বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, শেখ সুপিয়ান জানিয়েছেন,” নন্দীগ্রামে বিজেপির মৃত্যু ঘন্টা বেজে গিয়েছে । সিপিএম বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির লড়াই চক্রান্ত কোনোভাবেই কাজে লাগল না।

    মহম্মদপুর দারুল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি নির্বাচনে তা ফের প্রমাণিত হল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামবাসী,তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে জয়ী করে উপহার দেবে রাজ্যবাসীকে। বিরোধী শক্তি বিজেপি সিপিএমকে হলদির জলে ভাসিয়ে দেবো আমরা। সে বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন।” জানা গিয়েছে এই মাদ্রাসা নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থীরা ৫০ থেকে ৬০ টি করে ভোট পেয়েছেন। সে জায়গায় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীরা পেয়েছেন ২০০ থেকে ২৫০টি ভোট। এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বাপ্পাদিত্য গর্গ এই জয়কে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জয় বলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন,”সারা বছর মানুষ আমাদের সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। বর্তমান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শিক্ষা কর্মী ছাত্রছাত্রীরা এই রাজ্য সরকারের সুযোগ-সুবিধার দারুণভাবে ভোগ করছেন। স্বাভাবিকভাবে শাসক দলের প্রার্থীদের উপরে মানুষজন আস্থা-ভরসা রেখেছেন। আর সেই পথেই জয় সুনিশ্চিত হয়েছে।” এই জয়ের সুবাদে আগামীদিনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বাড়তি অক্সিজেন পেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)