মনোজ মণ্ডল: বিয়ের পর প্রথম পক্ষের স্ত্রীকে বাংলাদেশে রেখে বাবা এবং মাকে নিয়ে ভারতে চলে এসেছিলেন হরিচাঁদ মণ্ডল। গাইঘাটার মোড়লডাঙ্গা গ্রামে এসে পাকাপাকিভাবে থাকতেও শুরু করেন তাঁরা। জাল নথি দেখিয়ে এদেশের ভোটার, আধার কার্ড বানিয়ে দিব্যি ছিলেন হরিচাঁদের পরিবার। কিন্তু প্রথম পক্ষের স্ত্রী ভারতে এসে গোটা বিষয়টি জানিয়ে বনগাঁ পুলিস জেলার পুলিস সুপারের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের বাসিন্দা হরিচাঁদ মণ্ডলকে(৩৫) গ্রেফতার করেছিল গাইঘাটা থানার পুলিস। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার হরিচাঁদের বাবা সুজয় কুমার মণ্ডল (৫৬)কে গ্রেফতার করে পুলিস। এদিন ধৃতকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বাবা এবং ছেলের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বাসিন্দা হয়েও জাল নথি ব্যবহার করে এদেশের পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগের ধারায় মামলা রুজু করেছে গাইঘাটা থানার পুলিস।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হরিচাঁদ মণ্ডলের বাড়ি বাংলাদেশের সাক্ষীরা জেলার ঝিটকি গ্রামে। বাংলাদেশেই হরিচাঁদ বিয়ে করেন তহমিনা খাতুনকে। কিন্তু সাংসারিক অশান্তির জেরে প্রথম পক্ষের স্ত্রী তহমিনাকে বাংলাদেশে রেখেই হরিচাঁদ তাঁর বাবা সুজয় কুমার মণ্ডল এবং মা পুষ্পা রানী মণ্ডলকে নিয়ে ভারতে চলে আসেন। বাংলাদেশের পাসপোর্ট, ভিসা নিয়েই তাঁরা এদেশে চলে এসেছিলেন। সীমান্ত হয়ে তাঁরা ওঠেন গাইঘাটার মোড়লডাঙ্গা গ্রামে। এখানে এসে হরিচাঁদ দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন পূজা রায়কে। পূজার আসল বাড়ি বাংলাদেশে। তিনিও পাসপোর্ট নিয়ে এদেশে এসেছিলেন।
ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও পূজা অবৈধ ভাবেই এদেশে ছিলেন। পূজাকে বিয়ের আগেই অভিযোগ, হরিচাঁদ মণ্ডল এবং তাঁর বাবা,মা ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য জাল নথির মাধ্যমে আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে নিয়েছিলেন। জাল নথি দেখিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের হয়ে এদেশের পরিচয় পত্র তৈরি করতে সাহায্য করেন স্থানীয় কয়েকজন। কিন্তু সম্প্রতি বিপত্তি ঘটে হরিচাঁদ মণ্ডলের প্রথম পক্ষের স্ত্রী তহমিনা খাতুনের অভিযোগে।তহমিনা অভিযোগে বনগাঁ পুলিস জেলার পুলিস সুপারকে জানিয়েছেন, তিনি হরিচাঁদ মণ্ডলের প্রথম পক্ষের স্ত্রী। তাঁকে বাংলাদেশে রেখে ভারতে এসে দ্বিতীয় বার বিয়ে করেন হরিচাঁদ।
এদেশের বসবাসের জন্য জাল নথি ব্যবহার করে পরিচয় পত্র বানিয়েছেন। অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলেই অভিযোগ তহমিনার। তহমিনা অভিযোগের ভিত্তিতেই গাইঘাটা থানার পুলিস মোড়লডাঙ্গা গ্রাম থেকে হরিচাঁদ মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছিল। এদিন পুলিস গ্রেফতার করল হরিচাঁদের বাবা সুজয় কুমার মণ্ডলকে।