উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা পেল বীরভূমের দুই ছাত্র
বর্তমান | ০১ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: মাধ্যমিকে কাছাকাছি পৌঁছলেও মেধা তালিকায় জায়গা হয়নি কারওই। উচ্চ মাধ্যমিকে সেই আক্ষেপ ঘুচল বীরভূমের সিউড়ির দুই মেধাবী ছাত্রের। পর্ষদের মেধা তালিকায় স্থান পেল সিউড়ির পাবলিক অ্যান্ড চন্দ্রগতি মুস্তাফি মেমোরিয়াল হাই স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়া তপব্রত দাস ও শুভয়ান মণ্ডল। উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের ফলাফলে মেধা তালিকায় যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং নবম স্থান অধিকার করেছে তারা। তবে, এই ফলাফলে বিন্দুমাত্র আত্মতুষ্টিতে না ভুগে চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষাতেও এভাবেই বাজিমাত করতে চায় দুই বন্ধু।
এবারের মেধা তালিকায় ৯৮.৯৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী তপব্রতর বাড়ি বক্রেশ্বরের তাঁতিপাড়ায়। বাবা ভগবত দাস মেটেলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক। মা মালা দত্ত মুক্তিপুর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নার্স। একমাত্র ছেলে তপব্রতকে শহরের স্কুলে পড়ানোর জন্যই তাঁদের সিউড়িতে আসা। বর্তমানে তাঁরা শহরের সমন্বয়পল্লির বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে খবর, ছোট থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী তপোব্রত। মাধ্যমিকে ৭০০-র মধ্যে ৬৮০ পেয়ে স্কুলের নাম উজ্জ্বল করলেও মাত্র ৪ নম্বরের জন্য মেধা তালিকায় জায়গা না পাওয়ায় আক্ষেপ ছিলই। সেবছর মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় দশম স্থানাধিকারীর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৬৮৪। এবার উচ্চ মাধ্যমিকে তার সেই আক্ষেপ ঘুচল। তপোব্রত বলে, মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় একটুর জন্য স্থান পাইনি। তাই এবছর আরও ভালো করেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পরের সেমেস্টারেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। তপোব্রতর বাবা বলেন, ছেলে যা পরীক্ষা দিয়ে এসেছিল, প্রথম দশে ওর ঠাঁই হবে বলে আশা করেছিলাম। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়ে ছবি আঁকতে ভালোবাসে তপব্রত। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। তার বাবার অবশ্য দাবি, ছেলে যা খুশি হোক। মানুষের মতো মানুষ হোক, এটাই চাই।
একই স্কুলের পড়ুয়া তপব্রতর বন্ধু শুভায়ন অবশ্য চায় ডাক্তার হতে। উচ্চ মাধ্যমিকে ৯৭.৩৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে নবম স্থানাধিকারী হয়েছে সে। শুভায়নরা বর্তমানে সিউড়ির কল্পতরুপল্লির বাসিন্দা। তবে, তাঁদের আদি বাড়ি সাঁইথিয়া ব্লকের দেরিয়াপুরের গৌরনগর গ্রামে। বাবা রঞ্জিত মণ্ডল দেরিয়াপুর অঞ্চল উচ্চ বিদ্যালয়ের সংস্কৃতের শিক্ষক। মা মিনতি গৃহবধূ। শুভায়নের মা বলেন, ছেলের পড়াশোনার জন্যই আমাদের সিউড়ি শহরে আসা। মাধ্যমিক পরীক্ষায় শুভায়নের মাত্র ১ নম্বরের জন্য মেধাতালিকায় জায়গা হয়নি। দশম হওয়ার জন্য ৬৮৪ নম্বরের দরকার ছিল। পেয়েছিল ৬৮৩। তাই সেই আক্ষেপ ঘোচাতে একটা জেদ নিয়েই উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি শুরু করেছিল ছেলে। শুভয়ন বলে, মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিকে পুষিয়ে নেব প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। চতুর্থ সেমেস্টারে আরও ভালো ফলাফল করতে চাই। পড়াশোনার পাশাপাশি গিটার বাজাতে ভালোবাসে শুভায়ন।
তবে, নতুন এই সেমেস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিয়ে সন্তুষ্ট দুই পড়ুয়াই। দু’জনেরই দাবি, শুরুর দিকে ব্যাপারটা বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য খুবই উপযোগী। শুভায়নের দাবি, আমি এখন থেকেই নিটের জন্য প্রস্তুতি নিছি। সেই পড়াশোনাই কাজে লেগেছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য আলাদা করে পড়তে হচ্ছে না।