• মেধাতালিকায় নেই কেউ, উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের ফলে হতাশ বাঁকুড়া ও আরামবাগবাসী
    বর্তমান | ০১ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও আরামবাগ: মাধ্যমিক হোক বা উচ্চ মাধ্যমিক, প্রতিবারই ফল প্রকাশের পর বাঁকুড়ার জয়জয়কার হয়। এবার উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের ফল বাঁকুড়াবাসীকে হতাশ করেছে। শুক্রবার সেমেস্টারের ফল প্রকাশের পর একজনকেও মেধাতালিকায় দেখতে না পেয়ে জেলার বাসিন্দারা হতাশ হয়েছেন। দ্রুত খরা কাটিয়ে উঠে ফের যাতে জেলার কৃতীরা মেধাতালিকায় জায়গা করে নিতে পারে সেই প্রার্থনা করছে বাঁকুড়ার শিক্ষামহলও। 

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় বাঁকুড়ার পাঁচজন জায়গা পেয়েছিলেন। তিন ছাত্রের পাশাপাশি বাঁকুড়ার দু’জন ছাত্রীও মেধাতালিকায় ঠাঁই পান। চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল।

    বাঁকুড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পীযূষকান্তি বেরা বলেন, জেলার কোনও পরীক্ষার্থী মেধাতালিকায় জায়গা পায়নি। স্কুল ভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করলে জেলার প্রথম স্থানাধিকারীরা সন্ধান পাওয়া যাবে।  

    তৃণমূলের শিক্ষক নেতা তথা সারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌতম দাস বলেন, এবার তৃতীয় সেমেস্টারের ফলে বাঁকুড়ার কোনও পরীক্ষার্থী মেধাতালিকায় জায়গা না পাওয়ায় আমরা হতাশ হয়েছি। আগামী দিনে চতুর্থ সেমেস্টারের ফলাফলে জেলার ছাত্রছাত্রীরা মেধাতালিকায় জায়গা করে নেবে বলে আশাবাদী।

    এবিটিএ-র রাজ্য নেতা আশিস পাণ্ডে বলেন, কেন্দ্রের দিশাহীন শিক্ষা নীতি এরাজ্যে রূপায়ণ করতে গিয়ে পড়ুয়াদের বিপাকে ফেলা হয়েছে। স্কুলগুলি শিক্ষকশূন্য রয়েছে। সময়ে সিলেবাস শেষ করা যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাঁকুড়ার ছাত্রছাত্রীরা ভালো ফল করতে পারেনি বলে আমার অনুমান। অবিলম্বে সঠিকভাবে শিক্ষানীতি বলবৎ করতে হবে। তা না হলে জেলাস্তরে বিশেষত গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে ভালো ফল করা মুশকিল হবে।    

    এদিন উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর হতাশ হয়েছে আরামবাগবাসীও। বিগত বছরগুলিতে আরামবাগের বিভিন্ন স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় ঠাঁই পাওয়ার নজির রয়েছে। কিন্তু, এবার উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমেস্টারের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, কোনও পড়ুয়াই মেধাতালিকায় জায়গা পায়নি। 

    আরামবাগ হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক বিকাশচন্দ্র রায় বলেন, আমাদের স্কুলে পড়ুয়ারা মেধাতালিকার নম্বরের কাছাকাছি রয়েছে। আশা করা যায়, শেষ সেমেস্টারের ফলাফলে তাদের মধ্যে কয়েকজন মেধাতালিকায় জায়গা করে নেবে। তবে এবার ওএমআর পদ্ধতিতে প্রথম পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছিল। তার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার নিয়মেও পড়ুয়ারা অভ্যস্থ ছিল না। পরবর্তী ক্ষেত্রে তার সঙ্গে প্রত্যেকেই মানিয়ে নেবে।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)