টিটুন মল্লিক, বাঁকুড়া: বৃষ্টিতে জলের স্রোতে কার্যত ফুলেফেঁপে বাঁকুড়ার দ্বারকেশ্বর। জলের স্রোতে ডুবে গিয়েছে কজওয়ে। সেই সেতুতেই জলের তোড়ে আটকে গেল একটি চারচাকা গাড়ি। তবে চালক বা অন্য কাউকেই দেখা যায়নি। চালক কি জলে ভেসে গিয়েছে? নাকি চালক গাড়ি রেখে প্রাণ বাঁচিয়ে পাড়ে উঠেছে? সেই প্রশ্ন থাকছে। রবিবার সকালে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রবিবার সকালেই চমকে ওঠে মীনাপুর গ্রাম। টানা বৃষ্টিতে ফুলেফেঁপে ওঠা দ্বারকেশ্বরের জলে ডুবে রয়েছে মীনাপুর কজ়ওয়ে। তার মাঝখানে কাত হয়ে আছে একটি লাল রঙের গাড়ি। দরজা খোলা, ভিতরে কেউ নেই। নদীর স্রোতের মাঝে আটকে থাকা গাড়িটিকে দেখে গ্রামে শুরু হয় চাঞ্চল্য। কে এসেছিল রাতে? আর কোথায় মিলিয়ে গেল? এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে সকলের মুখে।
গ্রামের যুবক রাজেশ দে বলেন, “হয়তো চালক কজ়ওয়ে পার হতে গিয়েছিলেন। কিন্তু জল বেড়ে গেলে গাড়ি আটকে যায়। তারপর হয়তো প্রাণ বাঁচাতে নেমে পালিয়ে যান।” তবে অন্যদের দাবি, গাড়িটি যেভাবে আটকে আছে, তাতে মনে হচ্ছে ঘটনাটা শুধু দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে আরও কিছু থাকতে পারে। খবর পেয়ে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটি পরীক্ষা করে দেখে। নম্বর প্লেট থেকে মালিকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। মালিক ও চালকের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। গাড়িতে অন্য কেউ ছিলেন কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।”
গ্রামে এখন জল্পনা তুঙ্গে। বৃদ্ধা কমলা হেমব্রম বলেন, “রাতে নদীর দিক থেকে আওয়াজ শুনেছিলাম। মনে হয়েছিল কেউ সাহায্য চাইছে। ভয় পেয়ে জানলার দিকেও তাকাইনি। সকালে দেখি গাড়ি ভেসে আছে।” এদিন সকালে গরু চরাতে বেরিয়ে প্রথম গাড়িটি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দা তপন মাজি। তিনি বলেন, “দূর থেকে দেখি কিছু একটা জলে ঝকঝক করছে। কাছে গিয়ে দেখি গাড়ি! দরজা খোলা, ভিতরে কেউ নেই। এমন দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে যাই।” এরপরই তিনি খবর দেন গ্রামের শিক্ষক সুবল বাউরিকে। সুবলবাবু জানান, “কাল রাতের ঝড়বৃষ্টি আর নদীর গর্জনে কেউই বাইরে বেরোয়নি। কিন্তু গাড়িটা এখানে কীভাবে এল, সেটা বোঝা যাচ্ছে না।”