• বৃষ্টিতে সরে গিয়েছে পাথরের গুঁড়ো খন্দপথে হোঁচট খাচ্ছে শহরবাসী
    বর্তমান | ০৬ নভেম্বর ২০২৫
  • গণেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ধমান শহরের রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়ে পুরসভার ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। বছর ছয়েক আগে শহরে অম্রুত প্রকল্পে জলের পাইপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। পাইপ লাইন বসানোর জন্য খোঁড়াখুঁড়িতে রাস্তার অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। বহু রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলায় বন্ধ থাকে রাস্তা সংস্কারের কাজ। সেই কাজ শেষ হলেই রাস্তা মেরামতিতে হাত দেওয়া হবে বলে পুরসভার তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, আদপে পাইপ লাইন বসানো শেষ হলেও প্রতিশ্রুতি রাখেনি পুরসভা। 

    দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় শহরের বিভিন্ন রাস্তার অবস্থা চরম বেহাল হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিও সংস্কার করা হয়নি। সংস্কারের অভাবে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তে জল জমে থাকে। কাদায় ভরে যায় রাস্তা। বহু জায়গায় বৃষ্টির জল দীর্ঘদিন ধরে দাঁড়িয়ে থাকে। তাতে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাগজে–কলমে পাইপ লাইন বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু, এখনও গোদা এলাকার কিছু জায়গায় পাইপ লাইন বসানোর কাজ চলছে। তার জন্য রাস্তার পাশে গর্ত কাটা হচ্ছে। হাত দেওয়া যাচ্ছে না রাস্তা সংস্কারে। যদিও গোদা এলাকার কিছু রাস্তা সংস্কার শুরু হয়েছে। তবে, মোহনবাগান মাঠ থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা এখনও খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় পাইপ লাইন ফেটে জল বের হচ্ছে। কিছু জায়গায় পাথর ফেলে গর্ত বোজানো হয়েছে। তার উপর দেওয়া হয়েছে স্টোনডাস্ট। পিচের আস্তরণ না পড়ায় স্টোনডাস্ট উড়ছে। পাথর যেন দাঁত বের করে রয়েছে। কাজিরহাট থেকে টিকরহাট বেলতলা যাওয়ার রাস্তায় পেভার ব্লক বসছে। যদিও কাজ হচ্ছে অত্যন্ত ঢিমেতালে। বোরহাট থেকে টিকরহাট যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। পিচের আস্তরণ উঠে গিয়েছে। রাস্তার কিছু জায়গায় গর্ত দেখা দিয়েছে।  ১ নম্বর ওয়ার্ডে জিটি রোড থেকে কৃষ্ণপুর হাইস্কুল যাওয়ার রাস্তাটির সংস্কার শুরু হয়েছে। রাস্তায় পাথর পড়েছে। যদিও পিচের আস্তরণ না পড়ায় ধুলোঝড়ে নাকাল হচ্ছেন বাসিন্দারা। সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা। জিটি রোড থেকে খাগড়াগড় যাওয়ার প্রধান রাস্তাটির অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাবিশ ফেলে গর্ত বোজানো হয়েছে। কিন্তু, রাস্তার বেশিরভাগ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একই অবস্থা জিটি রোড থেকে বাবুরবাগে ওঠার বাদশাহী রোডের। কিছুদিন আগে তড়িঘড়ি রাস্তা সংস্কারে হাত দেয় পুরসভা। পাথর ফেলে রোলার চালানো হয়। তার উপর পিচ না পড়ায় বহু জায়গায় নতুন করে গর্ত তৈরি হয়েছে। বাবুরবাগ কালীতলা থেকে বাহির সর্বমঙ্গলাপাড়া হয়ে নজরুলপল্লি যাওয়ার রাস্তাটি অত্যন্ত খারাপ। এনিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। বর্ষার সময় বর্ধমান মেডিকেল কলেজের যাওয়ার রাস্তাটির অবস্থা বেহাল হয়ে পড়ে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় গর্ত দেখা দেয়। জমা জলে মাছ ছেড়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়। তারপরই তড়িঘড়ি পাথর ফেলে মান বাঁচানোর চেষ্টা করে পুরসভা। কিছুদিন পরই ফের পুরনো অবস্থায় ফিরেছে। শহরের বেশকিছু জায়গায় পুরসভা পাথর ফেলে রাস্তা সারানোর দাবি করছে। কিন্তু, বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। 

    পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বেশিরভাগ রাস্তার সংস্কার শুরু হয়েছে। বর্ষা আর পুজোর কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে, দ্রুত রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ করা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)