স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের নাম নেই ২০০২-র ভোটার তালিকায়, দুবরাজপুরে উধাও আরও ১৩৬ জনের নাম
বর্তমান | ০৬ নভেম্বর ২০২৫
পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে থাকা ভোটার তালিকায় দুবরাজপুর বিধানসভার অন্তর্গত খয়রাশোল গ্রামের ১৩৬জন ভোটারের নাম নেই। এমনকী, কমিশনের আপলোড করা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এলাকার বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী সুরেন্দ্রনাথ সরকারের পরিবারের সদস্যরাও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খয়রাশোলে শোরগোল পড়েছে। বুধবার খয়রাশোলে এসেছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায়। বিষয়টি তাঁকে জানানো হলে তিনি তড়িঘড়ি দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তরে ফোন করেন। তালিকায় নাম না থাকা ওই পরিবারগুলিকে আপাতত এসআইআরের ফর্ম ফিলআপ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ সরকার। ছোটবেলায় স্বদেশী আন্দোলন জড়িয়ে পড়েন। ১৯২৬ সালে জেলা কংগ্রেসের সম্পাদক পদে আসীন হয়েছিলেন। ১৯৪৩-৪৪ সালে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জেলা বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিতও হয়েছিলেন সুরেন্দ্রনাথবাবু। বিভিন্ন আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার জেলও খেটেছিলেন। তাঁর হয়ে মামলা করতে উকিল পাঠিয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। সুরেন্দ্রনাথবাবুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও। সেইসব আজও জ্বলজ্বল করছে স্বাধীনতা সংগ্রামীর বাড়ির দেওয়ালে। অথচ, তাঁরই পরিবারের সদস্যদের নাম নেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়! ঘটনায় রীতিমতো হতবাক তাঁর ছেলে সাম্যসাধক সরকার। ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কমিশনের কর্তাদের উপর। যাঁরা এই ভুল করেছেন তাঁদের শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাম্যসাধকবাবু বলেন, বাবা স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন। আমি নিজে ১৯৫৭সাল থেকে একটানা ভোট দিচ্ছি। দীর্ঘদিন গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ছিলাম। ১৯৮৩-’৯৩ সাল পর্যন্ত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ছিলাম। ১৯৯৩ সাল থেকে টানা ১৫বছর জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ ছিলাম। অথচ আমার ও আমাদের সরকার পরিবারের সদস্যদের কারও নাম নেই। আমি অত্যন্ত আশাহত হয়েছি। বয়স কম থাকলে কমিশনের বিরুদ্ধে আমি অনশন শুরু করতাম। তবে, শুধু সরকার পরিবার নয়, নাম নেই এই গ্রামের ১৩৬ জন ভোটারের। এলাকার বাসিন্দা মিলন সৌমণ্ডল বলেন, কয়েক যুগ ধরে এই এলাকায় বাস করছি। আমরা কেউ বিদেশ থেকে আসিনি। কিন্তু ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে আমাদের অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আর এক বাসিন্দা সুব্রত সাহা বলেন, কেন্দ্রের সরকার চুপিচুপি কারচুপি করছে কি না বুঝতে পারছি না। গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখা দরকার। সাংসদ শতাব্দী বলেন, কমিশনের আপলোড করা ভোটার তালিকায় ২২টি পাতা থাকার কথা। কিন্তু দেখছি ১৮টি পাতা রয়েছে। সেকারণেই বাকিদের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ তালিকা বিএলওদের কাছেও নেই। আমি ঘটনার কথা জানতে পেরেই অভিষেকের অফিসে বিষয়টি জানিয়েছি। এর সমাধান বের না হওয়া পর্যন্ত ওই পরিবারগুলিকে ফর্মফিলআপ করতে বারণ করা হয়েছে। তৃণমূলের খয়রাশোলের অঞ্চল সভাপতি সপ্তম গোপ বলেন, এর পিছনে গভীর চক্রান্ত থাকতে পারে। বাংলার ভোটার তালিকা নিয়ে ভয়ঙ্কর কেলেঙ্কারি চলছে। বিষয়টি বিডিও থেকে শুরু করে দলের সর্বোচ্চ স্তরেও জানানো হয়েছে। জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, তালিকা আপলোডে কোনও টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে। আমরা কমিশনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। পূর্ণাঙ্গ তালিকা আপলোড হয়ে যাবে। এনিয়ে চিন্তার বিশেষ কারণ নেই। ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের দুই প্রবীণ সদস্যর।-নিজস্ব চিত্র