নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার পরে প্রথম দফায় যে মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি), সেই উত্তরপত্রের বহু উত্তর চ্যালেঞ্জ করেছিলেন পরীক্ষার্থীদের অনেকে। তাঁদের দাবি ছিল, ওই মডেল উত্তরপত্রে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর ভুল আছে। তবে, বুধবার এসএসসি-র এক কর্তা জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ে খুব বেশি ভুল নজরে আসেনি। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ মিলিয়ে অনেকগুলি বিষয়ে পরীক্ষা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে মাত্র দু’-তিনটি বিষয়ে হাতে গোনা কয়েকটি ভুল চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। চূড়ান্ত মডেল উত্তরপত্র ফল বেরোনোর দিন, অর্থাৎ আগামী শুক্রবারই প্রকাশ করা হবে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর এসএসসি-র নবম-দশম এবং ১৪ সেপ্টেম্বর একাদশ-দ্বাদশের পরীক্ষা হয়েছিল। এর কিছু দিনের মধ্যে এই চারটি শ্রেণির ক্ষেত্রে প্রথম দফার মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ করে কমিশন। সেখানে বলা হয়, ওই উত্তরপত্র দেখে যদি কোনও পরীক্ষার্থী মনে করেন, কোনও প্রশ্নের উত্তর ভুল আছে, তবে তিনি সেটি চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন। প্রশ্ন পিছু ১০০ টাকা দিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগ ছিল। বাস্তবে দেখা যায়, প্রায় সব বিষয়েরই বেশ কিছু প্রশ্ন চ্যালেঞ্জ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। এসএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের দিয়ে ওই উত্তর ফের পরীক্ষা করিয়ে তার পরেই চূড়ান্ত উত্তরপত্র প্রকাশ করা হবে।
এসএসসি-র এক কর্তা এ দিন জানান, প্রায় সব বিষয়েই একাধিক প্রশ্নের উত্তর চ্যালেঞ্জ করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা। এমনও দেখা গিয়েছে, ৬০ জন পরীক্ষার্থী মিলে প্রশ্নপিছু ১০০ টাকা দিয়ে কোনও একটি বিষয়ের ৪০ থেকে ৫০টি প্রশ্নের উত্তরই হয়তো চ্যালেঞ্জ করেছেন। যে সব প্রশ্নের উত্তরে চ্যালেঞ্জ এসেছিল, সেগুলি ফের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকদের দিয়ে ভাল ভাবে পরীক্ষা করানো হয়েছে। কমিশন জানাচ্ছে, বিশেষজ্ঞদের চোখে কিন্তু অত ভুল নজরে আসেনি। দু’তিনটি বিষয়ে কিছুউত্তর পরিবর্তিত হয়েছে। তবে, বেশির ভাগ বিষয়েই কোনও উত্তরই পাল্টায়নি। যদিও পরীক্ষার্থীদের দাবি, তাঁরা যে সব উত্তর চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, সেগুলি চ্যালেঞ্জ করার যথেষ্ট যুক্তি ছিল। না হলে খামোখা প্রশ্নপিছু ১০০ টাকা খরচ করে কেন তাঁরা এই পথে যাবেন?
কমিশনের এক কর্তা জানান, যে সব বিষয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পাওয়া যায়নি, সেগুলির ক্ষেত্রে অন্য শহর থেকে বিষয়ভিত্তিক অধ্যাপকদের আনিয়ে সংশ্লিষ্ট উত্তরপত্র পরীক্ষা করানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, ‘‘আরবি ভাষার পরীক্ষার উত্তরপত্র যাচাইয়ের জন্য দিল্লির কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে কলকাতায় আনা হয়েছে। তেলুগু ভাষার উত্তরপত্র দেখার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের কোনও অধ্যাপককে। লখনউ থেকে আনা হয়েছে উর্দুর অধ্যাপককে। নেপালি ভাষার উত্তরপত্র দেখানোর জন্যও বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আনা হয়েছে।’’ তবে একই সঙ্গে এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত মডেল উত্তরপত্র প্রকাশ হওয়ার পরে সেই উত্তর আর চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। কেউ তা করতে গেলে তাঁকে মামলা করতে হবে।