• কাজ হচ্ছে না নতুন মুখে! বাম জমানার ‘সুবিধাভোগী’দের প্রচারে চায় সিপিএম
    প্রতিদিন | ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: বাম জমানায় পার্টির সুপারিশে একের পর এক পরিবার সরকারি চাকরি পেয়েছে। কারও হয়েছে জমি-বাড়ি। ভবিষ্যৎ তৈরি হয়ে গিয়েছিল পরিবারের। এমনকী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে সাইকেল তো বটেই, তার আগে-পরে নানাভাবে সরকারি পরিষেবা-সুবিধা পেয়েছে বহু নেতা-কর্মীর পরিবার। পার্টির সৌজন্যে নানা সময় সেইসব নানা সুবিধা যাঁরা পেয়েছেন, কিন্তু এখন অবসরে, সেইসব সুবিধাভোগী শ্রেণিকে এবার ময়দানে নামতে বলল সিপিএম। দলের কাছে একসময় যাঁরা দু’হাত ভরে পেয়েছেন, এবার তাঁদের ‘প্রতিদান’ দেওয়ার পালা।

    এসআইআর পর্বের মধ্যেই সিপিএম ভোটের প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম নিজে বেশ কিছু এলাকা ঘুরছেন। সেই পর্বেই দলের আলোচনায় অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে যা উঠে এসেছে তাতে দেখা গিয়েছে, জুনিয়র মুখকে এতদিন ধরে সামনে ঠেলে দিয়েও লাভ হয়নি। কারণ, এই শ্রেণির বেশিরভাগই ফেসবুকের লাইক-শেয়ারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ। তাঁদের কোনও গ্রাউন্ড-এফেক্ট নেই। এমনকী, তাঁদের গত ভোটে নানাভাবে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে প্রার্থী করেও দেখা গিয়েছে সবার জমানত জব্দ হয়েছে। সংগঠনের ভরাডুবির পর, তাকে ঘুরিয়ে দাঁড় করানো, সংগঠন বাড়ানো, ডোর টু ডোর প্রচার, মানুষের কাছে আবেদন-কোনও কিছুতেই জুনিয়রদের নামিয়ে কাজ হচ্ছে না। বরং তাদের সামনের প্রচারে রেখে দলের সিনিয়রদের আবার সংগঠনের মূল কাজে সামনের সারিতে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীতে এই ইস্যুতেই আলোচনা হয়েছে দলের এক সময়ের সেইসব সুবিধাভোগীদের কথা। এর মধ্যে আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে। জোটের প্রশ্নে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা আদৌ এগোবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নয় সিপিএম। কারণ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এখনও যা বলছেন তাতে কংগ্রেস একাই চলবে। এই পরিস্থিতিতে একা লড়তে হবে বুঝে সিপিএম আরও বিপদে। আলোচনায় তাই দলের সিনিয়র, যাঁরা বাম জমানায় বড় দায়িত্বে ছিলেন, বয়স বা দলীয় নীতির কারণে অবসর নিয়েছেন, তাঁদের কথা ভাবা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, তাঁদের না থাকা যে শূন্যতা তৈরি করেছে তা পূরণ করতে পারছেন না জুনিয়ররা। তাই পুরনো মুখের ‘ভ্যালু’কে কাজে লাগাতে চাইছে সিপিএম।

    সেখানেই প্রস্তাব হয়েছে, এই কাজে আগে ময়দানে নামানো হোক পার্টির সৌজন্যে এক সময় যাঁরা চাকরি বা নানা সুবিধা পেয়েছেন, অবসরে থাকা সেইসব কর্মীদের। জেলা সম্পাদকদের সঙ্গে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর ‘ইনফর্মাল’ কথাও এ নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে। বার্তা পাঠানো হয়েছে, দলের রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি, এরিয়া কমিটিতে এমন যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের ধরে ধরে মাঠে নামানো হোক। দলের কর্মী-সমর্থকরা যখন প্রচারে যাবেন বা বিশেষ করে এই এসআইআর পর্বে যাবেন, তখন সেইসব পুরনো নেতা-কর্মীদের জনসংযোগে বেরোতে হবে। পাড়ায় যেন তাদের দৃশ্যমানতা বাড়ে। দলের সভা-সমিতি বা কোনও অভিযান হলে তাঁদের যেন একসঙ্গে হাঁটানো হয়।
  • Link to this news (প্রতিদিন)