৩৫০ কেজি বিস্ফোরক, মহিলা চিকিৎসক ও জইশ! ভারতকে রক্তাক্ত করতে সক্রিয় মাসুদের ‘জেনানা জেহাদি’রা
প্রতিদিন | ১০ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সন্ত্রাসকে নয়া রূপ দিতে মহিলা ব্রিগেড তৈরি করেছে জইশ-ই-মহম্মদ। ভারতকে রক্তাক্ত করতে সেই ব্রিগেডই কি এবার সক্রিয় হয়ে উঠল দিল্লিতে। সম্প্রতি দিল্লির কাছে ফরিদাবাদে প্রায় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পেশায় চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল নামে সন্দেহভাজন এক জঙ্গিকে। ঘটনায় তদন্তে নেমে তদন্তকারীদের নজরে এল এক মহিলা চিকিৎসক। এই বিরাট সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ডে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই সন্দেহভাজন মহিলা। সেখান থেকেই অনুমান করা হচ্ছে, ভারতের মাটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাসুদের ‘জেনানা জেহাদি’রা।
সোমবার জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং হরিয়ানা পুলিশের একটি যৌথ দল হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে ৩৫০ কেজি অ্যামনিয়াম নাইট্রেট, একটি অ্যাসল্ট রাইফেল, পিস্তল-সহ প্রচুর গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। শ্রীনগরে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার দেওয়ার অভিযোগে উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে পুলিশ এক কাশ্মীরি ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করেই একটি গাড়ি ও অভিযুক্তের ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এই সব মারণাস্ত্র। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে সন্দেহজনক ওই গাড়িটি এক একজন মহিলা ডাক্তারের। মারুতি সুজুকি সুইফট মডেলের ওই গাড়ির কোড নম্বর শুরু হচ্ছে HR 51 দিয়ে। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে দেশের গোয়েন্দা বিভাগ। অনুমান করা হচ্ছে, পাকভূমে জইশ-ই-মহম্মদের যে মহিলা ব্রিগেডের কথা শোনা যাচ্ছিল সেটাই এবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভারতে।
পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে অপারেশন সিঁদুরে জইশের কোমর ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই অভিযানে মৃত্যু হয় মাসুদ আজাহারের পরিবারের ১১ সদস্যের। এর ঠিক পরই ভারতের বিরুদ্ধে বদলা নিতে মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়ার নেতৃত্বে নয়া মহিলা ব্রিগেড তৈরির ঘোষণা করে জইশ। ভাওয়ালপুরের মার্কাজ-উসমান-ও-আলি থেকেই এই সংগঠন তৈরি করা শুরু করে জইশ। নতুন এই মহিলা ব্রিগেডের নাম জামাত-উল-মোমিনাত। প্রসঙ্গত, অপারেশন সিঁদুরের সময় ভাওয়ালপুরে জইশের সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দেয় সেনা। শুধু তাই নয় শোনা যায়, ভারতকে রক্তাক্ত করতে ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে তাদের কার্যকলাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, ফরিদাবাদ থেকে যে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এর নেপথ্যে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের সেই জামাত-উল-মোমিনাত। আপাতত ভারতে ছড়িয়ে জইশের এই মহিলা ব্রিগেডের প্রতিটি সদস্যকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের আশা খুব শীঘ্রই এই বিরাট সন্ত্রাসবাদী চক্র তাঁদের নাগালে আসবে। অনুমান করা হচ্ছে, আপাতত জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলিতে এই মহিলা ব্রিগেড নিজেদের জাল ছড়াতে শুরু করেছে। তবে সে জাল বেশিদূর অগ্রসর হওয়ার আগেই সন্ত্রাসকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে কোমর বাঁধছে তদন্তকারীরা।