• ডিভোর্স না করেই লুকিয়ে বিয়ের আয়োজন! স্বামীর দ্বিতীয় বিবাহে সন্তান নিয়ে হাজির প্রথম স্ত্রী
    প্রতিদিন | ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • ধীমান রায়, কাটোয়া: লজ ভাড়া নিয়ে চলছিল বিয়ের অনুষ্ঠান। নিমন্ত্রিতদের রান্নার কাজ চলছিল পুরোদমে। প্রচুর লোকজনের ভিড়। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। ভাতার বাজারে একটি লজে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সাত বছরের নাবালক সন্তানকে নিয়ে হাজির এক যুবতী। সঙ্গে বাপেরবাড়ির লোকজন। অভিযোগ, পাত্র তাঁর স্বামী। কিন্তু আইনত ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করতে এসেছেন! বিয়ে বন্ধ করে আগে প্রথমপক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে নিস্পত্তি করার দাবি জানানো হয়। শুরু হয় দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা। যদিও খবর পেয়েই খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দেয়। যদিও বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই পাত্র ও পাত্রীকে নিয়ে চলে যান তাঁদের পরিবারের লোকজন। বিয়ের পর্ব না মিটলেও শেষপর্যন্ত পাত পেড়ে ভোজ খেয়ে গেলেন নিমন্ত্রিতদের অনেকেই। মঙ্গলকোট থানার খুর্তুবা গ্রামের বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে ভাতার থানা এলাকার বাসিন্দা এক তরুণীর বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল।

    ভাতার বাজারে ২২ বিঘার কাছে একটি লজ ভাড়া করা হয়েছিল বিয়ের জন্য। প্রচুর লোকজন চলে আসেন বিয়েবাড়িতে। হইহুল্লোড় চলছিল। তখন সকাল এগারোটা। সেইসময় বছর সাতেকের এক সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিয়েবাড়িতে হাজির হন এক বধূ। মঙ্গলকোটের খুর্তুবা গ্রামেই তাঁর বাপেরবাড়ি। সঙ্গে বাপেরবাড়ির লোকজন ও বেশ কিছু আত্মীয়স্বজন। তাঁরা সটান ঢুকে পড়েন লজে। শুরু হয় তুমুল বাগবিতণ্ডা।

    বধূর অভিযোগ, ‘‘আট বছর আগে আমার বিয়ে হয়। সাত বছরের সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন অতিরিক্ত পণের দাবিতে আমার উপর অত্যাচার করত। বাধ্য হয়ে বাপেরবাড়িতে চলে আসি। আমি কয়েকদিন আগে বধূ নির্যাতনের মামলা করেছি। তা বিচারাধীন। কিন্তু আইনত ডিভোর্স না দিয়েই লুকিয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করতে এসেছিল আমার স্বামী। আমি চাই আগে আমার সঙ্গে ঝামেলার নিষ্পত্তি করা হোক।’’ বধূর বাবা শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘মেয়ের বিয়েতে নগদ চার লক্ষ টাকা, ১২ ভরি সোনার গয়নার সঙ্গে আনুসঙ্গিক জিনিসপত্র যৌতুক হিসাবে দিয়েছি। সেসব ফেরত পাইনি। আমার মেয়ে ও। নাতির ভরণপোষণের কোনও ব্যবস্থা না করেই লুকিয়ে ভাতারে বিয়েবাড়ি ভাড়া করে বিয়ে করতে আসে আমার জামাই। আমরা বিচার চাই।’’

    ভাতার থানার পুলিশ দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়। এরপর বিয়ের পর্ব শেষ হওয়ার আগেই পাত্র ও পাত্রীকে সরিয়ে নিয়ে চলে যান পরিবারের লোকজন। বিয়ে ভেস্তে যায়। পাত্রের আত্মীদের একাংশের দাবি, তিনি দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে রেজিস্ট্রি ম্যারেজ করে রেখেছেন। এদিন শুধু খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রথমপক্ষের স্ত্রী মঙ্গলকোটে ফিরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)