• রাজগঞ্জের বিডিওকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ বিজেপির, ধুন্ধুমার
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ:  স্বঘোষিত ‘দাবাং’ প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেফতারের দাবিতে বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে ধুন্ধুমার। স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বিডিও প্রশান্ত বর্মনের। এনিয়ে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারপরও বিডিওকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, এই প্রশ্ন তুলে মঙ্গলবার বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। তাদের ওই বিক্ষোভের জেরে এদিন দুপুরে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজগঞ্জ বিডিও অফিস চত্বর। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা বিডিও অফিসে ঢোকার চেষ্টা করেন। এনিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি হয়। 

    এদিনের ঘটনায় মহিলা পুলিশের ধাক্কায় তিনি সহ দলের বেশ কয়েকজন চোট পেয়েছেন বলে অভিযোগ ডাবগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের। বিডিওর বিরুদ্ধে একাধিক অবৈধ কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। নামে-বেনামে তাঁর সম্পত্তির বহর নিয়েও প্রশ্ন তোলে বিজেপি। রাতের অন্ধকারে কেন রাজগঞ্জের বিডিও অফিসে এসে কাজ করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বিক্ষোভকারীদের তরফে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায় পুলিশের সামনে হুমকির সুরে জানিয়ে দেন, ১০ দিনের মধ্যে যদি বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে গ্রেফতার করা না হয়, সেক্ষেত্রে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। 

    সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে রাজগঞ্জের বিডিওকে দেখা না গেলেও, এদিন অফিসে ছিলেন তিনি। অবৈধ কারবারে যুক্ত থাকা নিয়ে বিজেপির তোলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন বিডিও বলেন, আগেই বলেছিলাম, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্রকারীরা এখন সামনে আসছে। নিজেদের টিআরপি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। 

    এদিন বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়, পাচারের কারবারের টাকার ভাগ পান রাজগঞ্জের বিডিও। সেই টাকা তিনি কলকাতায় পাঠান। এনিয়ে বিডিওর প্রতিক্রিয়া, ষড়যন্ত্রকারীরা যখন দেখে কোথাও আর কিছু করতে পারছি না, তখন তারা এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করে। বিজেপির অভিযোগ, বীরপাড়া, শিলিগুড়ির মাটিগাড়া, শিবমন্দির ও সল্টলেকে চারটি অট্টালিকা রয়েছে বিডিও’র। কীভাবে এত সম্পত্তির মালিক হলেন তিনি? এনিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। বাড়ি প্রসঙ্গে বিডিওর দাবি, ষড়যন্ত্রকারীরা অনেক কথা বলতেই পারে। 

    এদিকে, নিজেকে বাঁচাতে প্রশান্ত বর্মন রাজবংশী জাতিসত্ত্বাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। যা ভালোভাবে নেননি রাজবংশী সমাজের অনেকেই। ফলে বিষয়টি বুমেরাং হতে পারে ভেবে এদিন বিডিও বলেন, আমি জাতিসত্ত্বার কথা বলিনি। বলতে চেয়েছি, আমি নিজে রাজবংশী সম্প্রদায়ের। মুখ্যমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সরকারি অনুষ্ঠানে হাজির না থাকা নিয়ে বিডিওর দাবি, আমি ছুটিতে ছিলাম। মিডিয়াকে বলে কি আমাকে ছুটি নিতে হবে? রাতের বেলায় অফিসে আসা নিয়ে প্রশান্তবাবুর বক্তব্য, বিডিওর ২৪ ঘণ্টা কাজ থাকে। যখন দরকার পড়ে, তখনই অফিসে আসি। 
  • Link to this news (বর্তমান)