কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর: জট পাকছে। নতুন মুখ সুজনা দাসকে চেয়ারম্যান পদে মানতে নারাজ তৃণমূলেরই কাউন্সিলাদের একাংশ। দলের জেলা নেতৃত্বকে নিজেদের মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁরা। ডালখোলা পুরসভার ওই কাউন্সিলারদের দাবি, সুজনা প্রথমবার জিতে কাউন্সিলার হয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতাও কম। পুরসভার গুরুদায়িত্ব সামলানোর জন্য এমন কাউকে পদে বসানো ঠিক হবে না।
এদিকে, জেলা নেতৃত্ব জানিয়েছে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সেটা সবাইকে মেনে চলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সুজনা চেয়ারে বসলে বেঁকে বসা কাউন্সিলাররা কি ‘বিদ্রোহ’ চরমে নিয়ে যাবেন? সেই চর্চা শুরু হয়েছে দলের অন্দরেই। এদিকে, ১৮ নভেম্বর নতুন চেয়ারম্যান বেছে নেওয়ার দিন ঘোষণা করে কাউন্সিলারদের চিঠি দিয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ। এখন সবার নজর সেদিকেই।
গত শুক্রবার দলের তরফে চেয়ারম্যান বদলের নির্দেশ আসে। স্বদেশ সরকারকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুজনাকে আনার কথা জানানো হয়। এরপর থেকে রোজই যেন সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। সোমবার স্বদেশ ইস্তফা দেওয়ার পর দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে একাংশ কাউন্সিলার সুজনার জায়গায় পুরনো কাউন্সিলারদের মধ্যে থেকে কাউকে চেয়ারম্যান করার দাবি জানান। তবে, তাঁদের সঙ্গে সহমত হননি জেলা সভাপতি। তাই একাংশ কাউন্সিলার তাঁদের মতো করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন। হাতে কয়েকদিন সময় আছে। এই সময়ের মধ্যে অঙ্ক অনেক বদলে যেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলও।
চেয়ারম্যান পরিবর্তন দলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ। নতুন নামও রাজ্য থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। এখন কাউন্সিলারদের একাংশের প্রশ্ন, রাজ্য নেতৃত্বের কাছে সুজনার নাম কে প্রস্তাব করেছেন বা পাঠিয়েছেন? যাঁকে পদে বসানো হচ্ছে, তাঁর দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা যাচাই করা হয়নি কেন? সুজনাকে চেয়ারে বসিয়ে আসল চাবি অন্য কারও হাতে রাখার পরিকল্পনা নেই তো? কানাইয়ালালের মন্তব্য, দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে।
১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা দলের প্রাক্তন টাউন সভাপতি গোপাল রায়ের কথায়, সুজনা নতুন মুখ। তিনি এবার প্রথম নির্বাচিত হয়েছেন। ডালখোলার মতো একটি শহরে দিনরাত চেয়ারম্যানকে ছুটতে হয়। সেসব সামাল দেওয়া সুজনার পক্ষে কি সম্ভব হবে?
গোপালের দাবি, অনেক পুরনো মুখ আছেন। তাঁরা তিন-চারবার কাউন্সিলার হয়েছেন। তাঁদের দক্ষতাও আছে। এমন কাউকে চেয়ারম্যান করলে পুর প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তাই অনেক কাউন্সিলার সুজনাকে চেয়ারম্যান হিসেবে মানতে রাজি নন। দলের জেলা সভাপতিকেও সেটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চারবারের কাউন্সিলার ৪ নং ওয়ার্ডের তনয় দে’র গলাতেও এক সুর। বলেন, সুজনাকে চেয়ারম্যান হিসেবে কেউ মেনে নেবেন না। ১০ জন কাউন্সিলারকে নিয়ে বৈঠক করেছি। রাজ্য নেতৃত্বকে আপত্তির বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সুজনাকে ফোন ও মেসেজ করা হলেও তিনি উত্তর দেননি। সুজনা দাস।