সংবাদদাতা, কালিয়াচক: ফের তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এল মালদহের কালিয়াচক থানার নওদা যদুপুরে। মঙ্গলবার দুপুরে দলের বিএলএ-২ দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মীকে পথ আটকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি বকুল শেখ ও তার ভাইয়ের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন তৃণমূল কর্মী আব্দুল জব্বার। তাঁকে লোহার রড দিয়েও আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় দলীয় স্তরেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আহতকে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলার ঘটনায় কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে আক্রান্তের পরিবার। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ তৃণমূল কর্মী জব্বার কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁর পথ আটকান প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি বকুল শেখ, তাঁর ভাই এবং অন্য শাগরেদরা। জব্বার কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় বেধড়ক মারধর। লোহার রড দিয়ে মারধরের ফলে জব্বারের চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এই ঘটনা দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, হামলাকারীরা ভয় দেখানোর জন্য আগ্নেয়াস্ত্রও দেখিয়েছে। এই হামলার পর আক্রান্ত জব্বারের দাদা আলম শেখ তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ভাইকে এবার দলের তরফে বিএলএ-২ এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাড়ি ফেরার সময় আচমকা তার পথ আটকে মারধর শুরু করে। এই বকুল যদুপুরের ত্রাস বলে পরিচিত। তারা আমার ভাইকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছে।
কালিয়াচক এক তৃণমূল ব্লক সভাপতি সারিউল শেখ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর মন্তব্য, কী নিয়ে ঝামেলা বলতে পারব না। বিএলএ-টুকে মারধর করা ঘোরতর অন্যায়। পুলিশ তদন্ত করছে।
গোষ্ঠীকোন্দলের ঘটনা নিয়ে অভিযুক্ত বকুলের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আমিন শেখ। তিনি বলেন, দলের মধ্যে কেউ যদি ত্রাস তৈরি করতে চায়, তা বরদাস্ত করা হবে না। বকুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দলীয় কর্মীদের উপর জুলুম চালাচ্ছে। জব্বার দলের একজন সক্রিয় ও বিশ্বস্ত কর্মী। তাঁকে এভাবে লোহার রড দিয়ে মারধর করা চূড়ান্ত দলবিরোধী কাজ এবং অমার্জনীয় অপরাধ। এসব দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বকুল। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁকে ফাঁসানোর জন্য ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে।
এদিকে, এলাকায় বাড়ি বাড়ি না গিয়ে এক জায়গায় বসে এসআইআরের ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি করছেন বিএলওরা বলে অভিযোগ করল বিজেপি। শুধু তাই নয়, তাঁরা ফর্ম সংগ্রহও করছেন এক জায়গায় বসে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন বিজেপির নেত্রী তথা জেলা পরিষদ সদস্য শ্যামলী রজক। আক্রান্ত তৃণমূল বিএলএ। - নিজস্ব চিত্র।