সন্দীপন দত্ত, মালদহ: তাপমাত্রা নিম্নমুখী। আবহাওয়ার হঠাত্ বদলে চাহিদা বাড়ছে শীত পোশাকের। ফলে ইংলিশবাজার শহর এখন ভুটিয়া মার্কেটমুখী। গরম পোশাক কিনতে সকাল থেকেই ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। দিনের বেলা কাজের ফাঁকেও অনেকে সেরে ফেলছেন কেনাকাটা। আশাতীত বিক্রিবাটা দেখে মুখে হাসি ব্যবসায়ীদের মুখে।
ইংলিশবাজার শহরের বাঁধরোডের ধারে ফি বছর শীতে গরম জামাকাপড়ের বাজার বসে। চলতি ভাষায় সবাই একে ভুটিয়া মার্কেট বলেন। তবে, আসল নাম হিমালয়ান টিবেটিয়ান মার্কেট। গরম পোশাকের এই মার্কেটের প্রবেশ পথে বড় বড় লেখাও রয়েছে সেই নাম। মার্কেটের প্রধান নোওয়াং লোডের কথায়, ৭ নভেম্বর আমাদের বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এতদিন সেই অর্থে বাজারে খুব একটা ভিড় হচ্ছিল না। সন্ধ্যার পর কয়েকজন ঢুঁ মারতেন। কিন্তু সোমবার বিকেল থেকে হঠাৎই তাপমাত্রা কমতে থাকে। ভালোই ঠান্ডা লাগছে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাজারে লোকজনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে এই বাজারে দেখা যায়, বহু মানুষ সেখানে ভিড় জমিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ বেরিয়েছেন বিভিন্ন কাজ নিয়ে। আদালত, ডিএম অফিস, ট্রেজারি অফিস, ব্যাঙ্কের কাজের ফাঁকেই একবার ঢুঁ মেরে যাচ্ছেন এই বাজারে। আসল উদ্দেশ্য, নতুন কী বাজারে এসেছে একবার দেখে নেওয়া। শুধুমাত্র উইন্ডো শপিং নয়, অনেকে বিভিন্ন স্টল ঘুরে জ্যাকেট, সোয়েটার, মাফলারের পাশাপাশি ট্রায়াল দিচ্ছেন লং কোট, উলের স্টোল, শাল নিয়ে। দরদাম করে অনেকে কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন শীত পোশাক।
এবছর এখানে মোট ১৬টি স্টল বসেছে। বিক্রেতাদের কেউ কেউ এসেছেন শিমলা, হিমাচলপ্রদেশ থেকে। দেরাদুন, উত্তরাখণ্ডের ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন সেখানে। নোওয়াং স্বয়ং উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। বললেন, আমাদের এই বাজারের বয়স কম করে হলেও চল্লিশ বছর। আমাদের কয়েক পুরুষের ব্যবসা। আগে বাবা-দাদুরা এখানে আসতেন। এখন পরবর্তী জেনারেশনের ছেলেমেয়েরা আসছে।
ইংলিশবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর কথায়, বহু বছর ধরে শীতের মরশুমে এই বাজার বসে। সাধ্যের মধ্যে খুব ভালো মানের গরম পোশাক পাওয়া যায় এখানে।
প্রতি বছর নভেম্বরের গোড়া থেকে গরম কাপড়ের পসার নিয়ে শুরু হয় হিমালয়ান টিবেটিয়ান বাজার। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় তিনমাস চলে ব্যবসা। বিক্রেতাদের কথায়, এই বাজার তাঁদের কোনওবার হতাশ করেনি। তবে, এবছর একটু আগেই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। কারণ প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ঠান্ডা পড়তে শুরু করে। এবছর নভেম্বরের শুরুতেই বেশ ঠান্ডা। মঙ্গলবার মালদহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭.৮ এবং সর্বনিম্ন ১৮.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ডিগ্রি করে কম। আবহাওয়া দপ্তরের উত্তরবঙ্গের কো-অর্ডিনেটর গোপীনাথ রাহা জানান, মেঘমুক্ত আকাশ থাকায় সূর্যাস্তের পর থেকে বেশি ঠান্ডা লাগছে। থাকছে সূর্যোদয়ের পর বেলা পর্যন্ত। তবে, এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। • নিজস্ব চিত্র।