কাঁকসায় প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রাস্তা সংস্কারের কাজ, তুমুল ক্ষোভ
বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার মলানদিঘি পঞ্চায়েতের আড়া মোড় থেকে শিবতলা মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসআরডিএর তত্ত্বাবধানে এই কাজ হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর পর থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। বেহাল রাস্তায় চলা দায় হয়ে উঠছে। মানুষের সমস্যা দেখেও প্রশাসনের হেলদোল নেই।
এবিষয়ে মলানদিঘি পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে রাস্তাটির সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। যাঁরা বেআইনিভাবে রাস্তার জায়গা দখল করে রেখেছেন, জনশুনানি করে পঞ্চায়েতের তরফে তাঁদের নোটিশও করা হয়েছিল। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, এসআরডিএর তরফে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। কংক্রিট ব্লক দিয়ে পুরো রাস্তা তৈরি করা হবে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, আজ, বুধবার থেকে কাজ শুরু হচ্ছে। ওই রাস্তা ১৮ফুট চওড়া হবে। রাস্তা নিয়ে জনশুনানি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা যে কাগজ জমা দিয়েছেন, তা দেখা হচ্ছে। পুরোটাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রাস্তা দিয়ে সহজেই কাঁকসা থেকে দুর্গাপুরে যাওয়া যায়। তাছাড়া, বহু মানুষ প্রতিদিন আউশগ্রাম ও বীরভূম থেকে বিভিন্ন কাজে দুর্গাপুর যেতে রাস্তাটি ব্যবহার করে। এই রাস্তা দিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়া যায়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি। রাস্তাজুড়ে ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রায়ই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটছে। কাঁকসার বাসিন্দা সাহেব লাহা বলেন, এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করি। রাস্তাটির অবস্থা খুব খারাপ। দু’পাশে প্রচুর বহুতল আবাসন রয়েছে। দুর্গাপুরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্কুল যেতেও এই রাস্তাই ভরসা। আমাদের দাবি, অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কার করা হোক।
এই রাস্তার বেহাল দশার পাশাপাশি আরও একটি সমস্যা হল জবরদখল। অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই রাস্তাঘেঁষে বাড়ির সীমানা প্রাচীর তুলেছেন। ফলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। জবরদখল উচ্ছেদ করতে পঞ্চায়েত নোটিশও পাঠিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল, ‘শিবতলা থেকে আড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই রাস্তাটি সার্ভেয়ার দ্বারা মাপা জরুরি। এজন্য বাড়ির দলিল সহ নকশার জেরক্স পঞ্চায়েত অফিসে জমা করতে হবে।’ নির্দেশ মেনে স্থানীয়রা তা জমাও দেন।
অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে এই নিয়ে আর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি। কোনও অজানা কারণে জনশুনানির পরের কাজগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এদিকে, এসআরডিএর তত্ত্বাবধানে রাস্তার কাজ শুরু হয়। আড়া মোড় থেকে ১০০মিটারের মতো কাজও হয়। কিন্তু সেই কাজ দুর্গাপুজোর পর থেকে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা বরুণ ঘোষাল বলেন, কাজ শুরুর জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পঞ্চায়েত সমিতির কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিজস্ব চিত্র