• জমি নিয়ে চাকরি দেয়নি রেল, বিক্ষোভে কাজ বন্ধ, নন্দীগ্রামে অনিশ্চিত রেল লাইন প্রকল্প
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • শ্রীকান্ত পড়্যা, নন্দীগ্রাম: চাকরির দাবিতে নন্দীগ্রাম-বাজকুল রেললাইনের কাজ বন্ধ করে অবরোধে শামিল হলেন জমিদাতারা। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে ঘোলপুকুরিয়ায় রেলব্রিজের কাছে অবরোধ করেন জমিদাতারা। ওই এলাকাতেই রেলের প্রজেক্ট সাইট রয়েছে। সেই সাইট অফিসের সামনে রেয়াপাড়া-বিরুলিয়া রাস্তা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবরোধ করা হয়। পাশাপাশি অবরোধকারীরা এদিন রেললাইন পাতার কাজও বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিন জেবিসি দিয়ে কাজ চলছিল। সেখানে উপস্থিত নির্মাণ সংস্থার জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার সুজিত নস্করের সামনেই কাজে বাধা দেন জমিদাতারা। সুজিতবাবু বলেন, জমিদাতারা চাকরি এবং বকেয়া টাকার ইস্যুতে কাজ বন্ধ করেছেন। রেলের খড়্গপুরের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার নিশান্ত কুমার বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

    মঙ্গলবার সকালে ঘোলপুকুরিয়ার সৌম্যদীপ জানা, প্রশান্ত পাত্র, রঙ্কিনীপুর গ্রামের সোমা দাস, মিতালি মাল সহ আরও অনেকে রেলের প্রজেক্ট সাইট অফিসের সামনে জড়ো হন। তাঁদের দাবি, ওই প্রজেক্টে জমিদাতাদের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কয়েকজন চাকরি পেয়েছেন। তবে চাকরি না পাওয়ার তালিকাই দীর্ঘ। গত এক বছর ধরে চাকরি না পাওয়া জমিদাতারা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, রেলের কাজ এগিয়ে গেলেও চাকরির বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে গিয়েছে। তাই কাজ বন্ধ করে দিয়ে তাঁরা আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    সৌম্যদীপবাবু বলেন, ‘আমাদের দু’টি জায়গায় ৮ ও ১২ডেসিমল করে জমি নেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালে চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিলেও বাবার চাকরি হয়নি। এরপর আমি চাকরির জন্য আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। আমার মতো অনেকে জমি দিয়ে আজও চাকরি পাননি। তাই এই আন্দোলন।’ রঙ্কিনীপুরের সোমা দাস ও মিতালি মাল বলেন, আমরা এই প্রজেক্টের জন্য জমি দিয়েছি। অনেকে চাকরি পেলেও আমরা বঞ্চিত। রেল বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করুক। তারপর লাইন পাতার কাজ হবে।

    উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ২০১০সালে নন্দীগ্রাম-বাজকুল(দেশপ্রাণ স্টেশন) রেল প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই বছর ৩০ জানুয়ারি সাড়ে ১৮ কিলোমিটার রেল লাইনের কাজের সূচনা হয়। সেসময় জমিদাতাদের পরিবার পিছু রেলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গোড়ায় ৪৪৪ জন জমিদাতা নিয়োগপত্র পেয়ে রেলে চাকরিতে যোগ দেন। তারপর দফায় দফায় আরও বেশ কয়েকজন চাকরি পেয়েছেন। ২০২৪সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জিএম অনিলকুমার মিশ্র সহ রেলের আধিকারিকরা ওই প্রজেক্ট পরিদর্শনে যান। সেমসয় জমিদাতার চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। অনেকেই চাকরির দাবিতে আদালতে মামলাও করেছেন।

    চাকরির দাবিতে রেলের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নন্দীগ্রামে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা বেধে গিয়েছে। এনিয়ে নন্দীগ্রাম-২ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি রবিন জানা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্পের ঘোষণা হয়। সেই সময় তিনি জমিদাতাদের পরিবার পিছু একজনকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি যতদিন রেলমন্ত্রী ছিলেন সেই কথা রেখেছেন। কেন্দ্রে এখন বিজেপি সরকার। এখন জমিদাতাদের দাবি কেন্দ্রীয় সরকারেই পূরণ করতে হবে। জমিদাতাদের এই দাবি ন্যায্য।

    এনিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, নন্দীগ্রামকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার জন্য কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিল। জমিদাতাদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেইমতো জমিদাতা ১২০০ পরিবারের ম঩ধ্যে এক হাজার পরিবার চাকরি পেয়েছে। কাগজপত্রে ত্রুটির কারণে কয়েকজনের চাকরি হয়নি। সেটা বাকি আছে। যাঁরা চাকরি পাননি তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। আদালত থেকে তাঁদের চাকরির বিষয়েও এখনও কোন নির্দেশ আসেনি। এরকম নির্দেশ এলে রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)