তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে এক বছর ধরে আটকে, কৃষ্ণনগরে ৪৫০টি বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন শীঘ্রই
বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এক বছরের দীর্ঘ প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে গতি ফিরছে কৃষ্ণনগর পুরসভায়। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গত এক বছরে প্রায় ৪৫০টি বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। নাগরিক পরিষেবা কার্যত অচল অবস্থায় পৌঁছেছিল। অবশেষে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে পুরসভা আবার সক্রিয় হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের কাজ শুরু হচ্ছে। নভেম্বরের মধ্যেই সমস্ত আবেদন নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরসভার প্রশাসক তথা কৃষ্ণনগর সদরের মহকুমা শাসক শারদ্বতী চৌধুরী বলেন, আমরা বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়ায় জোর দিচ্ছি। যে সমস্ত আবেদন এতদিন ধরে পড়েছিল, সেগুলিকে ইন্সপেকশনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই সেই সমস্ত প্ল্যানের অনুমোদন দেওয়া হবে।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই পুরসভার বিল্ডিং প্ল্যান বিভাগে কাজ প্রায় বন্ধ ছিল। নতুন আবেদনের ফাইল জমা পড়তে থাকলেও অনুমোদন প্রক্রিয়া এগোয়নি। ফলে এক বছরের মধ্যে ফাইলের পাহাড় জমে ওঠে। নির্মাণ সংস্থা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা মহা সমস্যায় পড়েন। এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে আসে। চলতি বছরের মার্চ মাসে পুরসভার বাজেট পাশকে কেন্দ্র করে দলীয় কাউন্সিলারদের মধ্যে সংঘাত প্রকাশ্যে আসে। দলের নির্দেশ অমান্য করে কংগ্রেস ও নির্দল কাউন্সিলারদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃণমূলের কাউন্সিলাররা পুরসভার চেয়ারপার্সনকে অপসারণ করেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, রাজ্য সরকার বাধ্য হয়ে কৃষ্ণনগর পুরবোর্ড ভেঙে দেয়। সেইসঙ্গে পুরসভা কাউন্সিলার তথা সমগ্র বোর্ডকেই ‘অযোগ্য’ তকমা দিয়ে কার্যত তুলোধোনা করে রাজ্য সরকারের পুর নগরোন্নয়ন দপ্তর।
রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা চিঠিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, কাউন্সিলার বোর্ড কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পুরসভার প্রতিদিনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সেইসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, আবর্জনা অপসারণ, নিকাশি পরিষ্কার, শহরের পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো মৌলিক পরিষেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোর্ড ভাঙার পর রাজ্য সরকারের নির্দেশে কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসককে পুরসভার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বে পুরসভায় ফের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু হয়। প্রথম ধাপে বিল্ডিং প্ল্যানের আবেদনের ফাইলগুলির পর্যালোচনা চলছে। এরপর ধাপে ধাপে অনুমোদনের কাজ শুরু হবে।
কৃষ্ণনগর শহর তৃণমূল সভাপতি সুমাল্য ঘোষ বলেন, সমস্যার সমাধান চলছে। এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে আমাদের দল বিশেষভাবে উপকৃত হবে।
বিজেপির প্রাক্তন কাউন্সিলার বর্ণালী গুইন দত্ত বলেন, আমরা প্রথম থেকেই চেয়েছিলাম শহরের নাগরিক পরিষেবা উন্নত হোক। কিন্তু তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে তা ব্যাহত হচ্ছিল। বোর্ড ভাঙা নিয়ে আমরা আদালতে মামলা করেছি।
পুরসভার এক আধিকারিক জানান, প্রায় এক বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকায় প্রচুর ফাইল জমে গিয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখছি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শুধু বিল্ডিং প্ল্যান নয়, পুরসভার অন্য নাগরিক পরিষেবাতেও নতুন করে গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিকাশি পরিষ্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তা মেরামতি ও আলোকসজ্জার মতো পরিষেবায় জোর দেওয়া হচ্ছে।