• পোকার আক্রমণে ধানের ব্যাপক ক্ষতি, কৃষিমন্ত্রীর দ্বারস্থ লাভপুরের বিধায়ক
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: শুধু শোষক পোকাই নয়, সেই সঙ্গে টুংরো ভাইরাসের আক্রমণের কারণে ধানের দফারফ হচ্ছে। চোখের সামনে বিঘার পর বিঘা ধানজমি নষ্ট হতে দেখে বীরভূমের চাষিদের মধ্যে কার্যত হাহাকার শুরু হয়েছে। গত সোমবারই একটি প্রশাসনিক বৈঠক চলাকালীন জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি জেলাশাসক ধবল জৈনকে জানিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিধানসভায় কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে জেলার কৃষকদের দুরবস্থার কথা সবিস্তারে জানালেন বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। মন্ত্রীর আশ্বাস দেন, কৃষকরা যাতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ পায়, সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

    চাষিরা জানাচ্ছেন, সাধারণত আমন ধানের জমিতে শোষক পোকার আক্রমণ হয়েই থাকে। তবে, এবছর তা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ধানের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকে মাঠ থেকে কাঁচা ধানই কেটে নিচ্ছেন। বীরভূমের সিউড়ি, দুবরাজপুর, রাজনগর, খয়রাশোল থেকে শুরু করে বোলপুর, লাভপুর, নানুর, ইলামবাজার সহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকদের করুণ অবস্থা হয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় কৃষিমন্ত্রীর কাছে কৃষকদের এইসব সমস্যার কথা তুলে ধরেন লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ। বিধায়ক বলেন, শোষক পোকার আক্রমণ হলে কী ওষুধ দিতে হয় কৃষকরা জানে। কিন্তু এবছর যে ভাইরাস হানা দিয়েছে, তাতে কোনও ওষুধই কাজ করছে না। যার ফলে ধান জমি পুরো শুকিয়ে গিয়েছে। ধান কাটার অবস্থাতেই নেই। জেলার কৃষকদের এইসব সমস্যার কথা আমি কৃষিমন্ত্রীকে জানিয়েছি। চাষিরা যাতে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ পায়, তা তিনি দেখবেন বলেছেন। 

    কৃষি আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, টুংরো ভাইরাসের আক্রমণের কারণেই এবছর ধানের দফারফা অবস্থা। জেলার এক কৃষি আধিকারিক বলেন, ধানে শোষক পোকার আক্রমণ নতুন নয়। কিন্তু এবছর টুংরো ভাইরাসের হানায় বিঘার পর বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক অতীতে এই ভাইরাসের হানার নজির নেই। জেলার বিভিন্ন ব্লকেই পাশাপাশি বিশেষ করে নানুরের দাসকল গ্রাম কড়েয়া-১ ও ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় এই ভাইরাসের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। 

    জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ বলেন, শোষক পোকার আক্রমণ হলে কীটনাশক দিয়ে তা রোখা যায়। কিন্তু এই নতুন ভাইরাসের কাছে কোনও কীটনাশকই কাজ করছে না। চাষিরা যাতে ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেন, সেই ব্যাপারে প্রচার করা হচ্ছে। 

    কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই রোগে আক্রান্ত ধান গাছের পাতা প্রথমে হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে যায়। গাছ বেঁটে হয়ে যায়। সেই ধান গাছ থেকে আর কোনও শিষ বের হয় না। কিছুদিনের মধ্যে গাছ শুকিয়ে মরে যায়। চাষিরা এই লক্ষণ দেখে অনেক সময় বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। শোষক ভেবে ভুল কীটনাশক প্রয়োগ করে হাজার হাজার টাকা খরচও করে ফেলেন। কিন্তু কোনও কাজ হয় না। আসলে জমিতে একবার এই ভাইরাস হানা দিলে তা প্রতিরোধের উপায় সেইভাবে নেই। জেলা কৃষিদপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, ধানের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা জরিপের কাজ চলছে। শস্যবিমার জন্য চাষিদের থেকে আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ দেখে চাষিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)