• অভিনব প্রতিবাদ, অগ্নিমিত্রাকে মিষ্টি খাইয়ে কাজের হিসেব চাইলেন জনতা
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ‘পাড়ায় পাড়ায় দিদিভাই’ কর্মসূচি পালন করতে এসে অভিনব প্রতিবাদের মুখে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল। সোমবার বিকেলে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা এলাকার ডামরায় আসেন তিনি। তাঁর কাছে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে হাজির হন বাসিন্দারা। মিষ্টি দিয়ে তাঁরা জানতে চান, ‘দিদিভাই, আমাদের এলাকায় এতদিন তো আপনাকে দেখা যায়নি। তাই মিষ্টি দিয়ে অভ্যর্থনা জানালাম।’ এমন ‘অভ্যর্থনা’র জন্য অবশ্য প্রস্তুত ছিলেন না বিধায়ক। ফলে, খানিক হকচকিয়ে যান। সামলে উঠতে না উঠতেই বাসিন্দারা প্রশ্ন করতে শুরু করেন—‘দিদিভাই, আপনি আমাদের এলাকার উন্নয়নে কি কি কাজ করেছেন?’ 

    একের পর এক প্রশ্নবাণে বেজায় অস্বস্তিতে পড়ে যান বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা। এটা যে প্রতিবাদের গান্ধীগিরি, বুঝতে অসুবিধে হয়নি তাঁর। দ্রুত হেঁটে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেন। তাঁর পিছনে পিছনে গিয়ে প্রশ্ন করতেই থাকেন বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে বলতে থাকেন, ‘আপনার বিধায়ক কার্যালয় কোথায়, সেটা পাঁচ বছরেও জানতেই পারলাম না। কী করে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।’ বিধায়ক প্রদুত্তরে বলেন, ‘আমার মোবাইল নম্বর সবার কাছে রয়েছে।’ বিক্ষোভকারীরা পাল্টা বলেন, ‘এলাকার একজনও আপনার  ফোন নম্বর বলতে পারবে না। একটা কাজও আপনি করেননি।’ 

    বেগতিক বুঝে বিধায়কের সহকর্মীরা বাসিন্দাদের বাধা দিতে থাকেন। কিন্তু তাতেও তাঁরা দমে যাননি। অগ্নিমিত্রা অন্য‌ ঩লোকের বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগের চেষ্টা করেন। সেখানে গিয়েও বাসিন্দারা তাঁকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে যেতেই  থাকেন। প্রতিবাদে শামিল হওয়া স্বরাজ হাজরা, কেদার চট্টরাজরা বলেন, ‘আমরা আমাদের বিধায়ককে দেখতে পাইনি। কোনও উন্নয়ন করেননি। ভোট আসছে। তার ঠিক আগে এলাকায় দেখতে পেয়ে ওঁকে মিষ্টি খাইয়েছি।’ 

    অগ্নিমিত্রা অবশ্য পাল্টা প্রতিরোধের রাস্তায় হাঁটেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দলনেতার কনভয়ে হামলা করছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কনভয়ে হামলা করছে। শঙ্কর ঘোষ, খগেন মুর্মুর উপর প্রাণঘাতি হামলা হয়েছে। ঠিক একইভাবে আমাকেও হেনস্তা করার চেষ্টা হচ্ছে। আমার কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি জানাতে চাই, এভাবে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’ তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘এসআইআর নিয়ে মানুষ আতঙ্কিত। অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক নিজের এলাকাতেই একবারও যাননি। মানুষের ক্ষোভ এখন তুঙ্গে। এসআইআর নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাতে গেলে তাঁরা তো ক্ষোভ দেখা঩বেই। আমি তো বলব, ডামরার মানুষ যথেষ্ট সংযম দেখিয়েছেন। তাঁকে মিষ্টি খাইয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন।’ 

    ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সায়নী ঘোষকে কয়েক হাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন অগ্নিমিত্রা। পরবর্তীকালে দল তাঁকে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর আসনে টিকিট দেয়। পাশাপাশি বিজেপি তাঁকে রাজ্যস্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসায়। প্রথম চার বছর নিজের এলাকায় কার্যত তাঁকে দেখা যায়নি। লোকসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর নেত্রী নিজের বিধানসভা এলাকায় কর্মসূচি নেওয়া শুরু করেন। দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি নিয়ে আগেও তাঁকে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। ফের ডামরায় সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
  • Link to this news (বর্তমান)