আত্মীয় হলেন বাবা! দুই স্থানে ভোট পদ্মনেতার, বিডিওকে অভিযোগ, তোলপাড় কালনা
বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কালনা: আত্মীয়কে বাবা সাজিয়ে দু’জায়গায় ভোটার কার্ড তৈরি করেন কালনার এক বিজেপি নেতা। তিনি আবার পঞ্চায়েত সদস্য। শাসক দলের অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনেও তিনি দু’জায়গা থেকে ভোট দিয়েছিলেন। বিজেপি ভোটার লিস্টে স্বচ্ছতার কথা বলছে। অথচ তাদের নেতারা প্রমাণ করছে, তারা কতটা স্বচ্ছতা চায়। এরকম আরও অনেক বিজেপি নেতা-কর্মী একাধিক ভোটার কার্ড তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় ভোট দিয়েছে। এমনকি, বাংলাদেশ থেকে সম্প্রতি এরাজ্যে অনেককেই তারা ভোটার কার্ড তৈরি করে দিয়েছে বলে শাসক দলের দাবি। ওই বিজেপি নেতার কীর্তি সামনে আসার পর ঘটনার তদন্তের দাবিতে বিডিও অফিসে অভিযোগ জমা পড়েছে। কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
কালনার সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের রামকৃষ্ণপল্লির বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল বারুইয়ের দু’টি ভোটার কার্ড থাকার বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে যায়। ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, এক জায়গায় সম্পর্কিত জেঠু দুলাল বারুইকে বাবা সাজিয়ে গোপালবাবুর নাম রয়েছে। আবার আর এক জায়গায় নিজের বাবা অনিল বারুইয়ের নাম ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ওই পদ্মনেতার। দুই জায়গায় ভোটার এপিক নম্বর আলাদা। তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি তারক সরকার বলেন, বিজেপির বহু নেতা-কর্মী এভাবেই কাকা, জেঠুকে বাবা সাজিয়ে অনৈতিকভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি। আমরা চাই কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নিক।
গোপালবাবু বলেন, আগে জেঠুর নাম ব্যবহার করে নিজের নাম তুলেছিলাম। পড়ে বাবার নাম দিয়ে ভোটার কার্ড হয়েছে। দু’জায়গার ভোটার তালিকায় নাম থাকায় দু’টি কার্ড হয়েছে। বাবার নাম আছে সেই ভোটার কার্ডটি আমি ব্যবহার করি। দু’টি নাম থাকা নিয়ে প্রশাসনিকভাবে কোনও আবেদন জানিয়েছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে কোনও আবেদন করেননি বলে তিনি জানান।
তৃণমূলের দাবি, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে আসা অনেককেই বিজেপি পদে বসিয়েছে। তাদের মধ্যে বর্ধমানের এক নেতাও রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলের নেতারাই রাজ্য নেতৃত্বকে অভিযোগ করেছেন। ওই নেতার পরিবারের সদস্যরা এখনও বাংলাদেশে থাকেন বলে তাঁদের দাবি। কালনা সাতগাছিয়া পঞ্চায়েতের রামকৃষ্ণপল্লির বাসিন্দা বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সমীরণ হাওলাদার ও শ্বাসপুর দিঘির পশ্চিমপাড়ের বাসিন্দা গিরেন বাইনের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, এসআইআর বিজেপির কাছে ব্যুমেরাং হতে বসেছে। বিশেষ করে মতুয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলি তাদের থেকে মুখ ফেরাতে শুরু করেছে। গত নির্বাচনগুলিতে দেখা গিয়েছে, ওই গ্রামগুলিতে বিজেপির ভোটের হার বেশি ছিল। এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকে ওই গ্রামগুলিতে বিজেপি নেতারা বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন। নিজস্ব চিত্র