• অর্ধেক বুথে বিজেপির বিএলএদের দেখা নেই
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫ হাজার ৮৯৫ বুথে বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছেন বিএলওরা। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি অর্থাৎ বিএলএরাও মানুষের সাহায্যে বাড়িতে যাচ্ছেন। এসআইআর ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা বেড়েছে। মুর্শিদাবাদের সব রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত বিএলএ’র সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। তৃণমূল বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে নাগরিকদের আতঙ্কিত না হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। পাশাপাশি খুলেছে ভোট রক্ষা সহায়তা শিবির। বিএলওদের দিয়ে যাওয়া ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন তাঁরা। তবে বিজেপি মুর্শিদাবাদ জেলায় অর্ধেক সংখ্যক বুথে বিএলএ নামাতেই পারেনি। ৫ হাজার ৮৯৫টি বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ’র সংখ্যা ৫ হাজার ৭৯০। সেখানে বিজেপির বিএলএ মাত্র ২ হাজার ৩৮০ জন। জেলায় সাংগঠনিক শক্তি কম। তাই, বিএলএ নামানো সম্ভব হয়নি বলেই দাবি গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। 

    এদিকে, এই জেলায় কংগ্রেসের বিএলএর সংখ্যা ৪ হাজার ৫৩০। সিপিএমের বিএলএ ৩ হাজার ৭৪০ জন। কোনও রাজনৈতিক দলই ১০০ শতাংশ বিএলএ নিয়োগ করতে পারেনি। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চর্চা। 

    মুর্শিদাবাদ জেলায় ৫৮ লক্ষ ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটারের বাড়িতে বিএলওরা ফর্ম পৌঁছে দিয়েছেন ইতিমধ্যেই। বিএলএ’রাও বাড়ি বাড়ি যাওয়া শুরু করেছেন। ফর্ম পূরণে সাহায্য করছেন তাঁরা। তবে শাসকদলের জনপ্রতিনিধি এবং সদস্যরা ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্যদের খুব একটা মাঠে দেখা যাচ্ছে না। এমনটাই দাবি সাধারণ মানুষের। 

    বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, ‘মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কাজ। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বারবার জনবিরোধী নীতি আনছে। আর তাতেই মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন যে ভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবে জেলায় প্রয়োজনীয় কাজ শুরু করেছি। আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে বদ্ধ পরিকর। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া মানুষের পাশে কোনও রাজনৈতিক দলই নেই। যে কারণে বিরোধীরা প্রতিটি বুথে বিএলএ নিয়োগ করতে পারেনি।’ 

    জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘মানুষের যাতে হয়রানি না হয় সেজন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় শিবির চালু করেছি। পাশাপাশি বিএলএ’রা সবার বাড়ি যাচ্ছেন। আমরা প্রতিটি বুথের জন্য একজন করে বিএলএ নামিয়েছি।’ 

    বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি মলয় মহাজন বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক জেলায় ১ হাজার ৮৮০ বুথ রয়েছে। যার মধ্যে ৯১২টি বুথে বিএলএ নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যান্য বুথে পাওয়া যায়নি বলে বিএলএ দিতে পারিনি। আসলে, এই জেলায় আমাজের সাংগঠনিক দুর্বলতা রয়েইছে। অস্বীকার করার উপায় নেই। তার উপর শাসকদলের তরফে হয়রানি করার ভয়ে দলের অনেকেই বিএলএ হতে চাননি।’ কংগ্রেস নেতা মাহফুজ আলম ডালিম বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞাপন পছন্দ করি না। মানুষকে সহযোগিতা করাই আমাদের আসল উদ্দেশ্য। আমরা সাড়ে চার হাজারের বেশি বুথে বিএলএ নিয়োগ করেছি।’

                       • কার্টুন: সুব্রত মাজি 
  • Link to this news (বর্তমান)