• খাদ্য সামগ্রীর পরিবর্তে পাল্লায় ইট, বালি দিয়ে বায়োমেট্রিক লিঙ্ক, নলহাটিতে রেশন ডিলারের বেনিয়মের প্রতিবাদ গ্রাহকদের
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সামগ্রীর বদলে ওজন মাপার যন্ত্রে বাটখারা, বালি ভর্তি কৌটো চাপিয়ে গ্রাম ঘুরে বায়োমেট্রিক লিঙ্ক করে নেওয়া হচ্ছে গ্রাহকদের। কয়েকদিন পর ডিলারের বাড়ি থেকে দেওয়া হচ্ছে সেই রেশন। যদিও অভিযোগ, ওজনে কম সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার নলহাটির কুশিপুর গ্রামে ডিলারের অভিনব কায়দার বেনিয়ম ধরে ফেলে প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন গ্রাহকরা।

    রেশনের সামগ্রী পেতে হলে প্রথমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (যেমন আঙুলের ছাপ) আপনার পরিচয় যাচাই করতে হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়ার সময় গ্রাহকের প্রাপ্য চাল হোক বা ডাল, অন্যান্য সামগ্রী চাপানো থাকবে ওজন মাপার যন্ত্রে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল, সঠিক উপভোক্তাকে শনাক্ত করে রেশন বন্টনে স্বচ্ছতা আনা। এবং তা গ্রাম ঘুরে ঘুরে বিলি করতে হবে ডিলারকে। আর এই স্বচ্ছতার মধ্যেই অস্বচ্ছতা ছবি নলহাটিতে। 

    নলহাটির বাগানপাড়া, কুশিপুর ও শেরগ্রামের রেশন ডিলার গোলাম রসুল। তাঁর বাড়ি বাগানপাড়া গ্রামে। কুশিপুর গ্রামের উপভোক্তা রেজাউল শেখ, শেরগ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের, মুর্শেদা বিবিরা বলেন, গ্রামে এসে রেশন সামগ্রী দেওয়ার কথা। এই রেশন ডিলার গ্রামে গ্রামে আসেন ঠিকই, কিন্তু রেশন সামগ্রীর বদলে ওজনমাপার যন্ত্র, বাটখারা, বালি ভর্তি কৌটো ও ইঁট নিয়ে আসেন। যন্ত্রে সামগ্রীর বদলে সেগুলি চাপিয়ে আমাদের বায়োমেট্রিক ছাপ নিয়ে লিঙ্ক করিয়ে নিয়ে চলে যান। কখনও তিনদিন, কখনও সপ্তাহ খানেক পর তাঁর বাড়িতে গিয়ে সেই খাদ্যসামগ্রী আনতে হয়। তখন ওজনে কম সামগ্রী দেওয়া হয়। এভাবে তিনি গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী আত্মসাত করে আসছেন। এর আগে বহুবার প্রতিবাদ করেছি, ঝামেলা হয়েছে কিন্তু নিজেকে বদলে নেননি ওই ডিলার। তাই এদিন  জোরালো প্রতিবাদ করা হয়েছে। 

    যদিও ডিলার বলেন, রাস্তা খারাপ। তাছাড়া গাড়ি তো দেয়নি। খাদ্যসামগ্রী গ্রামে গ্রামে নিয়ে গেলে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই গ্রামে গ্রামে ঘুরে লিঙ্কটা করে নিই। পরে বাড়ি থেকে খাদ্যসামগ্রী বিলি করি। আমার বাড়ি কাছে হওয়ায় গ্রাহকদের অসুবিধে হয় না। যাঁদের অসুবিধে হচ্ছে, তাঁদের সুবিধা করে দেব। ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। 

    যদিও শেরগ্রাম, কুশিপুর গ্রামের উপভোক্তাদের অভিযোগ, বাগানপাড়া থেকে তাঁদের গ্রামের দূরত্ব এক কিমি। দিনমজুর পরিবারকে কাজ কামাই করে অতদুর থেকে রেশন সামগ্রী আনতে হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মৌখিকভাবে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিডিও সৌরভ মেহেতা জানান, গ্রাহকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

                                   নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)