মাত্র ১৪ মিনিটে ১৯টি লেনদেন, গ্রাহকের অজান্তে গায়েব দু’লক্ষ!
বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: গ্রাহকের অজান্তে মাত্র ১৪ মিনিটে ১৯টি লেনদেন! তাতে খোয়া গেল প্রায় দু’লক্ষ টাকা! বাগুইআটির এক ব্যক্তি এভাবেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। টাকা ফিরে পেতে তিনি বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গ্রাহকের দাবি, এই ট্রানজাকশন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি কারও কাছে তাঁর ব্যাংকের নথি বা ব্যক্তিগত নথি শেয়ার করেননি! তাহলে কীভাবে ওই টাকা গায়েব হয়ে গেল? এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এই প্রতারণার এখনও কিনারা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা সাধারণত, গ্রাহকদের ফোন করে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। তারপর অ্যাকাউন্ট থেকে সহজেই টাকা লোপাট করে দেয়। কিন্তু, এই গ্রাহকের কাছে কোনও ফোন আসেনি। গত ২৪ অক্টোবর সাতসকালে তাঁর আমচকা ঘুম ভেঙে যায়। তিনি দেখেন, ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৬টা ২৭ মিনিট— এই ১৪ মিনিটের মধ্যে ১৯টি লেনদেন হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টে। তার মধ্যে তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা করে চারবার লেনদেন দেখিয়ে মোট ৪০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার টাকা করে আরও ১৫টি লেনদেন হয়েছে তাঁর ক্রেডিট কার্ড থেকে! মোট ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা লোপাট হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় দু’লক্ষ টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা এখন ফোনে ডট এপিকে ফাইল পাঠাচ্ছে। সেই ফাইল ক্লিক করে ডাউনলোড করামাত্র ফোনের স্ক্রিন হ্যাক করে নিচ্ছে প্রতারকরা। অর্থাৎ, গ্রাহক কী করছেন, তা দেখতে পাছে তারা। ফলে, হ্যাক করার পর গ্রাহক কোনও ট্রানজাকশন করলে তারা তা দেখে নিচ্ছে। তারপর সেই ট্রানজাকশন তারা নিজেরাই করে ফেলছে। এতে গ্রাহকের মোবাইলে ওটিপি গেলেও প্রতারকরা তা দেখে নিতে পারছে। দ্বিতীয়ত, অচেনা লিংক পাঠিয়েও অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ক্ষেত্রে কী ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।