• ‘ওরা দয়া করছে না’, স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে নার্সিংহোমগুলিকে আক্রমণ মমতার, শতাধিক ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালের উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমগুলি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের রোগী ফেরালে তাদের লাইসেন্স রাখার কোনও অধিকার নেই। এমনও অভিযোগ পেয়েছি, হার্টের চিকিৎসা করাতে গেলে বারাসতের একটা প্রাইভেট হাসপাতাল বলেছে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থেকে ২ লক্ষ টাকা ক্যাশলেস হবে। বাকি টাকা ক্যাশে দিতে হবে। এ আবার কী? ৫ লক্ষ টাকার কার্ড। কেন ২ লক্ষ দেবে? ওর কাছে ক্যাশ না থাকলে কোথা থেকে দেবে? জীবন দিয়ে দেবে? আমরা চিকিৎসার জন্য ইনসিওরেন্সের টাকা দিচ্ছি। রোগী ফেরাবে কেন? ওরা তো কোনও দয়া করছে না।’ মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রাইভেট হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলির একাংশকে এই ভাষাতেই তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আরও বক্তব্য, ‘সব নার্সিংহোম-প্রাইভেট হাসপাতাল খারাপ, বলছি না। আজও অনেকে সেবা দেয়। আমাদের কমিশন হস্তক্ষেপ করার পর অভিযোগও কমেছে। কিন্তু এটাও সত্যি, অনেকে রোগী ফেরাচ্ছে। অভিযোগ পেলেই স্বাস্থ্যসচিবকে বলি, শো-কজ করুন। এসব বরদাস্ত করব না।’ স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড ইস্যুতে একের পর এক প্রাইভেট হাসপাতালকে শো-কজের পালা চলছে। 

    এদিন স্বাস্থ্যভবন থেকে ১১০টি ‘ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল’ বা মোবাইল মেডিকেল ইউনিটের উদ্বোধন করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর এই পরিকল্পনা রূপায়ণে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য পরিবহণ শাখা। মমতা বলেন, ‘রাজ্যসভার সাংসদদের গত বছরের তহবিল থেকে এই খাতে ৬০ কোটি টাকা এসেছে। আরও ২০ কোটি টাকা আমরা দিয়েছি। আরও ১০০টি এমন যান শীঘ্রই চালু হবে। তারপর আরও ১০০।’ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৫ ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকছে এই মেডিকেল ইউনিটগুলিতে। ৩৫ ধরনের টেস্ট করা যাবে। অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের জন্য যানের মধ্যেই থাকবে ইউএসজির ব্যবস্থা। 

    রাজ্যে চলতি এসআইআর নিয়ে এদিনও বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেন মমতা। বলেন, ‘আমাদের জমানায় ক’জন হাসপাতালে জন্মেছে? বাড়িতে জন্ম হত। আমিও বাড়িতে জন্মেছি। তার বার্থ সার্টিফিকেট হয়? অনেকের ক্ষেত্রে বাবা-মা যে দিনটি উল্লেখ করতেন, সেটাই জন্মদিন হয়ে যেত।’ এ প্রসঙ্গে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন। বলেন,  ‘একবার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ফোন করায় অটলজি (প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী) পর্যন্ত আমায় বলেছিলেন, মমতাজি, ইয়ে মেরা বার্থ ডে নেহি হ্যায়!’ টাকার বিনিময়ে সামাজিক মাধ্যমে বা অনলাইনে কুৎসা, অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন মমতা। বলেন, ‘দিল্লির একটা ছবি দেখিয়ে মিডিয়ার নামে কিছু লোক বদনাম করছে। ওরা আবার লোকের বাড়িতে ঢুকে পরিচয় জানতে চাইছে। বাংলার বদনাম করলে আমি ছাড়ব না।’ 

    এদিন কলকাতা মেডিকেল কলেজস্থিত স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের কর্ড ব্লাড ব্যাংকের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা। বলেন, ‘কর্ড ব্লাড ব্যাংক নিয়ে কত আশার আলো দেখছে দুনিয়া। মেডিকেলে ১০০ বেড দিলাম। কিন্তু কোনও কাজ হল না। পিজিকে বলব ওই ব্যাংক করতে।’ চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য স্বাস্থ্যকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। অঙ্গদান আন্দোলন এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে নতুন জীবন দিতে পিজি হাসপাতালে লিভার, কিডনি, হার্ট সহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যাংক করা যায় কিনা, স্বাস্থ্যকর্তাদের ভেবে দেখতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)