• গতবারের তুলনায় ডেঙ্গু বেড়েছে সামান্য, তবে ধারাবাহিকভাবে কমেছে ম্যালেরিয়া
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি বছর শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ অনেকটাই কম। উৎসবের মরশুমে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক থাকতে রীতিমতো নির্দেশনামা জারি করা হয়েছিল এবার। পুজোর সময় বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছিলেন পুরকর্তারা। কিন্তু, ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধি মাত্রাতিরিক্ত হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে হারে সংক্রমণ বাড়ছিল, দুর্গাপুজোর মধ্যেও সেই ধারাই বজায় ছিল। পরে নভেম্বরে এসেও সেই হার বজায় রয়েছে। 

    তবে, ২০২৪ সালের তুলনায় এবার অবশ্য আক্রান্তের সংখ্যা সামান্য বেড়েছে। এতে দুশ্চিন্তার কিছু দেখছেন না পুর স্বাস্থ্যকর্তারা। তাঁদের যুক্তি, ২০২৪ সালে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেশ কম ছিল শহরে। তার তুলনায় এই বছরে সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও নাগালে রয়েছে। অন্যদিকে, গত তিন বছরে শহরে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। 

    পুরসভার সর্বশেষ (২ নভেম্বর পর্যন্ত) তথ্য বলছে, শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১১০৬। আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮৯ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। এক স্বাস্থ্যকর্তা বলেন, গত দু’ থেকে তিন সপ্তাহ ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধির গ্রাফ ওঠানামা করছে। কোনও সপ্তাহে ৯৩ জন নতুন আক্রান্ত পাচ্ছি আমরা, কখনও আবার ৮৫ কিংবা ৮৯ জন। তবে, এটা চিন্তার কিছু নয়। আমরা সতর্ক রয়েছি। স্বাস্থ্যবিভাগ জানাচ্ছে, চলতি বছর এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে রয়েছে ১০ নম্বর বরো। সেখানে ২ নভেম্বর পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৮ জন। আর সব থেকে কম বা ডেঙ্গু নেই বললেই চলে, এমন অঞ্চল হচ্ছে ২ নম্বর বরো। সেখানে ওই সময়কাল পর্যন্ত মাত্র সাতজন আক্রান্ত হয়েছেন।

    মণ্ডপের বাঁশের মাথায় ও ত্রিপলের ভাঁজে যাতে জল না জমে, পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের তা খেয়াল রাখতে বলা হয়েছিল এবার। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে খামতি থেকে যাওয়ায় সংক্রমণ হার সামান্য বেড়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সময়টি ডেঙ্গুবাহক মশার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত। তাই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে, এটাই স্বাভাবিক।

    কলকাতা পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ ডঃ দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সারা বছর সতর্ক থাকে পুরসভা। সেই কারণে গত বছর এত কম ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিল শহরে। সেজন্য ২০২৪ সালকে ‘অস্বাভাবিক বছর’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ২০২৫ সালের ডেঙ্গুর তথ্যের সঙ্গে আমরা ২০২৩ সালের তথ্যের তুলনা করছি বারবার। কারণ, করোনা-পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে মাত্রাতিরিক্ত ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছিল শহরে। সেক্ষেত্রে ওই বছরের তুলনায় চলতি বছর ৯১ শতাংশ ডেঙ্গু কম শহরে। 
  • Link to this news (বর্তমান)