• দফায় দফায় কোচ-ক্যাপ্টেন ম্যারাথন মিটিং, বাইশ গজ চিন্তায় রাখছে ভারতকে
    বর্তমান | ১২ নভেম্বর ২০২৫
  • সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: বাইশ গজের সামনে প্রায় শুয়ে পড়ছেন শুভমান গিল। গভীর মনোযোগ পিচে। মাঝে মাঝে বাউন্স পরীক্ষার জন্য আঙুল দিয়ে ঠুকতে দেখা গেল তাঁকে। কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। মঙ্গলবার ভারতের অনুশীলনে এই ছবিটা দেখা গেল বার দুয়েক। একবার শুরুতে, অন্যবার শেষে!

    শুধু ক্যাপ্টেন গিলই নন, আশপাশের চরিত্রগুলোও থাকল রিপিট টেলিকাস্টে। তাঁরা কারা? কোচ গৌতম গম্ভীর, সহকারী কোচ সীতাংশু কোটাক, বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল। দু’দফাতেই ডেকে নেওয়া হল কিউরেটর সুজন মুখার্জিকে। সকাল ন’টার সঙ্গে দুপুর বারোটা— ঘণ্টা তিনেকের ফারাকেও অদ্ভুত মিল। যার অর্থ একটাই, নন্দনকাননের পিচ চিন্তায় ফেলছে টিম ইন্ডিয়াকে। ‘কমন’ থাকল পিচের পাশেই কোচ-ক্যাপ্টেনের ম্যারাথন মিটিংয়ের ফ্রেমটাও। কী আশ্চর্য, সেটা অনুশীলনের শুরুর মতো শেষেও হল। অবশ্য এর সূত্রপাত অস্ট্রেলিয়ায়। ব্রিসবেনে সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচের আগেও আলোচনায় মগ্ন ছিলেন গম্ভীর-গিল। দেশে ফিরলেও থিঙ্কট্যাঙ্কের ছবিটা বদলাল না। বরং দফায় দফায় তার পুনরাবৃত্তি ঘটল। 

    চর্চার ভরকেন্দ্রে যে পিচ, তা বলার জন্য অবশ্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টার্নিং ট্র্যাক করার কোনও অনুরোধ আসেনি, তা আগেই জানিয়েছিলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি। কিন্তু ঘূর্ণি পিচ তো দূর, বল টার্ন করুক — এটাই চাইছে না ভারত। কেশব মহারাজ, সাইমন হার্মার, সেনুরান মুথুস্বামী— প্রোটিয়া স্পিনারত্রয়ীকে প্লেটে করে মুখরোচক মেনু সাজিয়ে দিতে তীব্র অনীহা হোমটিমের। তা সে যতই হাতে রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দররা থাকুন না কেন। বছর খানেক আগে নিউজিল্যান্ডের কাছে ০-৩ হোয়াইটওয়াশের ক্ষত এখনও দগদগে। জেনেশুনে বিষপানের ঝুঁকি কেনই বা নেবেন গম্ভীররা!

    কিন্তু শুকনো ন্যাড়া পিচে খেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বল ঘুরবে। সৌরভ তো পিচ দেখে এসে বলেই ফেললেন, ‘দারুণ উইকেট। বাঁই বাঁই করে টার্ন নেবে।’ মুশকিল হল, সেক্ষেত্রে কার পক্ষে ‘দারুণ’ তা তর্কসাপেক্ষ। প্রোটিয়া স্পিনাররা যে সদ্য পাকিস্তানে টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত সফল! 

    ঘাস না থাকলেও পেসারদের জন্য রয়েছে বাউন্স। রিভার্স স্যুইংয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে। যশপ্রীত বুমরাহ বিধ্বংসী হয়ে উঠতেই পারেন। নেটে ‘বুমবুম’ শুধু নিখুঁত নিশানায় বার বার স্টাম্প ছিটকে দিলেনই না, দু’দিকে মুভমেন্টও করালেন। ফুরফুরে বুমরাহ অবশ্যই স্বস্তি আনছে। কিন্তু উল্টোদিকেও যে একটা কাগিসো রাবাডা রয়েছেন। আছেন দীর্ঘকায় বাঁ-হাতি মার্কো জানসেন। যশস্বী জয়সওয়ালদের পক্ষে তাঁদের সামলানোও সহজ হবে না। বেঙ্গালুরুতে সদ্য দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বেসরকারি টেস্টে মুখ থুবড়ে পড়েছেন লোকেশ রাহুল, সাই সুদর্শনরা। অবশ্য সেই ম্যাচে খেলা ঋষভ পন্থ, মহম্মদ সিরাজ, কুলদীপ যাদব, আকাশদীপ, ধ্রুব জুরেল, রাহুলরা হোটেলেই রইলেন। আসেননি অক্ষর প্যাটেলও। 

    মঙ্গলবার নেটে বাড়তি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ দেখাল শুভমান গিলকে। নেটে স্পিনার, পেসারদের সামলানোর পর গেলেন নকিংয়ে। এল একটার পর একটা কভার ড্রাইভ। ট্রেনারের তত্ত্বাবধানে স্প্রিন্ট টেনে ফের যাওয়া পিচে। গুমোট আবহ বদলাল টিমবাসে উঠতে যাওয়ার সময়। ক্লাবহাউসে আচমকা মুখোমুখি ছোটবেলার দুই সতীর্থের সঙ্গে। মুহূর্তে শুরু হাসি-ঠাট্টা, খোশগল্প। কে বলবে, একটু আগেই মুখের জ্যামিতিতে ধরা পড়ছিল একরাশ উদ্বেগ!
  • Link to this news (বর্তমান)