• এজরা স্ট্রিটে তারের জঞ্জাল উধাও, ঘটনার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের!
    বর্তমান | ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অগ্নিকাণ্ডের পর কি টনক নড়ল প্রশাসনের? বড়বাজারের এজরা স্ট্রিটে রবিবার দেখা গেল অন্য চিত্র! চারিদিকে ঝুলে থাকা তারের জঞ্জাল উধাও! এলোমেলো ছড়িয়ে থাকা অজস্র তারকে গুচ্ছ পাকিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে দমকলের গাড়ি বাধাহীনভাবে আসা-যাওয়া করতে পারে। তবে গোটা এলাকা এখনও জতুগৃহ বলেই দাবি স্থানীয়দের। পুরোনো বিল্ডিংগুলির অভ্যন্তরীণ নির্মাণে দেদার বদল আনা হয়েছে নিয়মকানুনের কোনও তোয়াক্কা না করেই। ভিতরে ছোটো ছোটো ঘুপচি ঘর। সেসব ঘরে ঠাসা রয়েছে নানা বৈদ্যুতিন সামগ্রী, সহজদাহ্য পদার্থ। যে গুদামে শনিবার ভোরে আগুন লেগেছিল, সেখানকার ‘পকেট ফায়ার’ নেভাতে রবিবার বেলা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে দমকল কর্মীদের। চলেছে কুলিং প্রসেসও। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অনবরত ধোঁয়া বেরচ্ছে তখনও। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, সব মিলিয়ে অন্তত ২০০ দোকান পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে। তবে এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও মামলা রুজু হয়নি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।

    শনিবার এজরা স্ট্রিটে যেখানে আগুন লাগে, কয়েক মাস আগে তার ঠিক পাশেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় অবৈধ দখলদার এবং পার্কিংয়ের কারণে দমকলকে গাড়ি ঢোকাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুরসভা এবং লালবাজারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, এই সমস্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর দিকে যেন নজর দেওয়া হয়। বিভিন্ন দোকানে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ঠিকঠাক আছে কি না, খতিয়ে দেখতে হবে। সেই সঙ্গে রাস্তায় অবৈধ দখলদার বা বেআইনি পার্কিং যেন না থাকে, তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর বৈঠকে বসে প্রশাসন। কিন্তু বাস্তব ছবি যে খুব একটা বদলায়নি, শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তা কার্যত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    আগুনে পুড়ে গিয়েছে রাজীব গুপ্তার দোকান। এদিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘গোটা দোকান ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই।’ এদিন ঘটনাস্থলে আরও দেখা গেল, এজরা স্ট্রিটে যে বিল্ডিংয়ে আগুন লেগেছিল, তার ভিতরে বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল লাইন বিপজ্জনকভাবে রয়েছে তখনও। যদিও ওই বিল্ডিংয়ে ঢোকার যে রাস্তা, সেখানে মাথার উপর ঝুলতে থাকা তারের জঞ্জাল সরানো হয়েছে। গুচ্ছ বেঁধে একত্রিত করে রাখা হয়েছে তারগুলি। 

    অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে এদিন বেলা পর্যন্ত কুলিং প্রসেসও চালিয়ে যেতে হয়েছে দমকলকে। ফলে ফরেন্সিক টিম রবিবার নমুনা সংগ্রহ করতে যেতে পারেনি। আজ যেতে পারে তারা। আপাতত গোটা অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)