‘হারের হতাশায় কমিশনকে নিশানা’, রাহুলকে তোপ প্রাক্তন আমলা-বিচারপতিদের
বর্তমান | ২০ নভেম্বর ২০২৫
নয়াদিল্লি: নির্বাচনে পরাজিত হলেই ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ। আবার কখনও ইভিএমকে দোষারোপ। এজন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তুলোধনা করলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সেনাকর্মী ও আমলাদের একাংশ। এব্যাপারে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন তাঁরা। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ‘একের পর এক হারের হতাশা থেকে এমন সব অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চলছে।’ কমিশনকে আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকারও আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও ভোট চুরির এত প্রমাণ দেখেও চোখ বন্ধ রেখে বিরোধী নেতাকে আক্রমণের তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত। তিনি চিঠির স্বাক্ষরকারীদের ‘বিজেপি রোজগার এক্সচেঞ্চের আবেদনকারী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে কোনও প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার নেই কেন?
রাহুলের সমালোচনায় লেখা খোলা চিঠিতে ২৭২ জনের স্বাক্ষর রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, ১২৩ জন প্রাক্তন আমলা, ১৩৩ জন প্রাক্তন সেনা অফিসার এবং ১৪ জন প্রাক্তন দূতও। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমরা সমাজের প্রবীণ সদস্য। যেভাবে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বিষাক্ত বাক্যবাণে জর্জরিত করা হচ্ছে, তাতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কিছু নেতা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে প্ররোচনামূলক এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে যাচ্ছেন। ওই সব অভিযোগ প্রমাণিত নয়। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের উপর নিয়মিত আক্রমণ চলছে। প্রথমে ভারতীয় সেনার বীরত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপর বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা এবং সংসদে সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে আক্রমণ। এবার কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকেও। ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে রাহুলের ‘অ্যাটম বোমা’ মন্তব্যকে অশোভন বলে অভিহিত করা হয়েছে চিঠিতে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে সরব কংগ্রেস। বিহার নির্বাচনের আগেও এব্যাপারে সরব হয়েছিলেন রাহুল। যদিও তাঁর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে পালটা আক্রমণ শানায় গেরুয়া শিবির।