পিয়ালী মিত্র: কসবার রাজডাঙ্গা এলাকায় একটি হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের মৃতদেহ। বিবস্ত্র অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়। মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল, নাক দিয়ে রক্তক্ষরণ লক্ষ্য করা গিয়েছে। জানা গিয়েছে মৃত যুবক বীরভূমের দুবরাজপুরের বাসিন্দা। নাম আদর্শ লোসাঙ্কা। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, খুনই করা হয়েছে ওই যুবককে।
পুলিস সূত্রে খবর গতকাল রাত সাড়ে আটটা নাগাদ আদর্শ ও তার দুই সঙ্গী হোটেলে চেক ইন করেন। তার দুই সঙ্গীর মধ্যে একজন ছিলেন মহিলা। প্রায় ঘণ্টা পাঁচেক থাকার পর ওই মহিলা ও তার পুরুষ সঙ্গী হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। তার পর থেকে সকালেও রুম থেকে বের হননি আদর্শ। দুপুরে হাউস কিপিং কর্মী ঘরে ঢুকলে আদর্শের মৃতদেহ দেখতে পান। মেঝেয় পড়েছিল তার মৃতদেহ।
কিছুদিন আগেই পার্ক স্ট্রিটের একটি হোটেলে একটি খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে তিনজন মিলে একটি ঘর ভাড়া করেছিল। এরপরই একজনকে খুন করে বক্সখাটের মধ্য়ে রেখে পালিয়ে যায় বাকী দুজন। কসবার ঘটনার ক্ষেত্রে শুক্রবার রাতে অনলাইনে হোটেলের চারতলায় একটি রুম ভাড়া করেন তিনজন। তিনজনের মধ্যে একজন মহিলা ও দুজন পুরুষ।
ঘটনার তদন্তে নেমেছেন কলকাতা পুলিসের হোমিসাইড শাখার অফিসাররা। আনা হয়েছে পুলিস কুকুর। হোটেলের সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানার চেষ্টা হচ্ছে যে দুজন চলে গিয়েছিল তারা কোনও আইডি প্রুফ দিয়েছিল কিনা। পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, দুবরাজপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাজারপাড়ার বাসিন্দা বিমল কুমার লোসালকার পুত্র আদর্শ লোসলকা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, আদর্শ লোসালকা কলকাতার PWC কোম্পানিতে বিগত দেড় বছর ধরে চার্টার্ড একাউন্টেন্টের কাজ করতেন। আদর্শ লোসলকার পড়াশোনা দুবরাজপুরের শ্রীশ্রী সারদা বিদ্যাপীঠে। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতায় পড়াশোনা। লোসালকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর কসবা থানার পুলিস দুবরাজপুর থানায় খবর দেয়। তারপর দুবরাজপুর থানার পুলিসের পক্ষ থেকে আদর্শ লোসালকার পরিবার পরিজনদের জানানো হয়। খবর চাউর হতেই পরিবার-পরিজন ও এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। ইতিমধ্যেই আদর্শ লোসলকার পরিবারের লোকজন কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।