রাসায়নিক সার থেকে বিস্ফোরক বানানোর ছক, কাশ্মীরে অডিট শুরু পুলিশের
বর্তমান | ২৪ নভেম্বর ২০২৫
শ্রীনগর: দেশজুড়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক সার জোগাড় করেছিল মেডিকেল মডিউলের জঙ্গিরা। ওই সার থেকেই বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল জোগাড়ের পরিকল্পনা ছিল তাদের। তাই এবার তড়িঘড়ি কাশ্মীর উপত্যকায় কত পরিমাণ সার ও অন্যান্য রাসায়নিক বিক্রি হয়েছে, তার অডিটের সিদ্ধান্ত নিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। হরিয়ানার কায়দায় কাশ্মীরেও জঙ্গিরা খোলা বাজার থেকে বোমা তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করছে কি না, তা জানতেই এই অডিট বলে পুলিশ সূত্রে খবর। সার রাখার গুদাম, দোকান, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিকের ডিস্ট্রিবিউটার ও হার্ডওয়্যারের দোকানগুলিতে অভিযান শুরু হয়েছে। একটি দোকান বা গুদামে কত সার মজুত রয়েছে এবং কত সার কেনা-বেচা করা হয়েছে, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। হিসেবের বাইরে কোনও সার বা রাসায়নিক নাশকতামূলক কাজের জন্য পাচার করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ। ক্রেতাদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং কেন সার বা রাসায়নিক কেনা হচ্ছে, সেই তথ্য লিখে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের রাছে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দোকান ও গুদামে সিসি ক্যামেরা লাগানো, ডিজিটাল স্টক রেজিস্টার তৈরি এবং জেলা মনিটারিং সেলে রিয়েল-টাইম তথ্য আপডেটের নির্দেশও দেখা হয়েছে বলে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর।
পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘অভিযুক্তরা সার ব্যবসার ক্ষেত্রে যে ফাঁক রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়েছিল। বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক তারা জোগাড় করলেও, কোথাও কারও একবিন্দু সন্দেহ হয়নি।’ কাশ্মীরেও যাতে জঙ্গিরা এই ফাঁক ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্যই আগেভাগেই পুলিশ সতর্ক হতে চাইছে বলে ওই আধিকারিকের দাবি। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে সার কেনাবেচা হলেই যাতে তার নথি থাকে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর জন্য গাইডলাইনও বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।’