জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হেমন্তের শেষে হালকা শীতের আমেজ নিয়ে আসা এক সন্ধ্যায় জমজমাট অ্যাক্রোপলিস মলের ভিড়। কেনাকাটার মাঝেই আচমকা গানের সুর, সঙ্গে একঝাঁক তরুণ-তরুণীর নাচ। তবে নিছক বিনোদন নয়, এই ‘ফ্ল্যাশ মব’-এর নেপথ্যে ছিল এক গভীর সামাজিক বার্তা। লক্ষ্য, এইচআইভি এবং এইডস নিয়ে জনমানসে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ভুল ধারণা ভাঙা।
সোমবার, ২৪ নভেম্বর অ্যাক্রোপলিস মলে চারুচন্দ্র কলেজ এনএসএস এবং রেড রিবন ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত হল এই বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার— ‘ইনটেনসিফায়েড ক্যাম্পেন ২০২৫’। সহযোগিতায় ছিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমিতি (WBSAP&CS) এবং ন্যাকো (NACO)।
‘রোগকে ঘৃণা করো, রোগীকে নয়’—দীর্ঘদিন ধরে এই বার্তাই দিয়ে আসছে চারুচন্দ্র কলেজের রেড রিবন ক্লাব। কলেজের এনএসএস প্রোগ্রাম অফিসার তথা অধ্যাপিকা নূপুর রায় বলেন, ‘প্রায় এক দশক ধরে আমরা মানুষের পাশে থেকে এইডস সচেতনতার কাজ করছি। আগামীর এইডস-মুক্ত বিশ্ব গড়তে যুবসমাজই আমাদের প্রধান হাতিয়ার। রাজপথে বা জনবহুল স্থানে বারবার এভাবেই আমরা ফিরে আসব।’
তারকাখচিত এই সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী, অলকানন্দা গুহ, প্রেরণা ভট্টাচার্য, ভ্লগার সুকান্ত কুন্ডু এবং আরজে নীল। ছিলেন স্বাস্থ্য দফতরের (WBSAP&CS) যুগ্ম অধিকর্তা পিয়ালী দাস, অ্যাক্রোপলিস মলের জিএম (ফেসিলিটি) শিব সাগর শ এবং কলেজের টিচার-ইন-চার্জ অনুরাধা দে।
স্বাস্থ্য দফতরের যুগ্ম অধিকর্তা পিয়ালী দাসের কথায়, ‘যুব সম্প্রদায়ই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ থাকাটা জরুরি। রোগকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে, রোগীকে নয়।’ কলেজের টিচার-ইন-চার্জ অনুরাধা দে জানান, স্বাস্থ্য দফতর ও ন্যাকো ইন্ডিয়ার সহযোগিতাতেই ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে এই বার্তা এত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত তারকারাও একযোগে সাধুবাদ জানান এই উদ্যোগকে। অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী ও অলকানন্দা গুহরা কথা দিয়েছেন, আগামী দিনেও এমন ভালো কাজে কলেজের পাশেই থাকবেন তাঁরা। প্রথমবার এমন অনুষ্ঠানে এসে ভ্লগার সুকান্ত কুন্ডু বলেন, ‘ভীষণ ভালো উদ্যোগ। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।’ আরজে নীল আবেদন জানান, এইচআইভি নিয়ে অজ্ঞতা দূর করতে সঠিক তথ্য জেনে নেওয়ার জন্য।
অ্যাক্রোপলিস মলের তরফে শিব সাগর শ জানান, এমন একটি সামাজিক উদ্যোগে ভেনু পার্টনার হতে পেরে তাঁরা গর্বিত। নাচ-গান আর তারকা সমাবেশের জাঁকজমকে এদিনের অনুষ্ঠানটি পথচলতি মানুষ ও যুবসমাজের কাছে সচেতনতার বার্তা সফলভাবেই পৌঁছে দিল বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।