সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ কি নিরাপদ? আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় মিলল নয়া সতর্কবার্তা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৮ নভেম্বর ২০২৫
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং ম্যানগ্রোভ ক্ষয় সুন্দরবনের ভবিষ্যৎকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ২০৫০ সালের মধ্যে সুন্দরবনের বড় অংশ ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুন্দরবনের জলবায়ু সংকট, পরিবেশ দূষণ ও জীবিকার অনিশ্চয়তা নিয়ে সম্প্রতি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ বহু-বিষয়ক সেমিনার। ভূগোল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ও ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক গবেষণা তুলে ধরেন।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সমাজকেন্দ্রিক গবেষণার গুরুত্ব উল্লেখ করেন। প্রাক্তন সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ হাসান সুন্দরবনের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেলে সরকারি ডিজিটাল সতর্কতা দ্বীপাঞ্চলে পৌঁছায় না। তখন পুলিশ মাইকিং, স্থানীয়দের মুখে মুখে বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য উপায়। গবেষকরা চান এই স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সরকারি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
জীববিজ্ঞান বিভাগের গবেষণায় উঠে এসেছে, ম্যানগ্রোভের শিকড়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঘটাচ্ছে। এতে শিকড়ের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, মৌয়ালদের জীবিকা শক্তিশালী করতে মধুর গুণমান নির্ধারণে কম খরচের পোর্টেবল ডিভাইস তৈরি করেছেন মেঘা আহমেদ। ব্যয়বহুল ল্যাব যন্ত্রের বদলে এই প্রযুক্তি কয়েক সেকেন্ডে মধুর মান বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
সেমিনার শেষে বক্তারা জানান, সুন্দরবনের স্থায়িত্বের জন্য স্থানীয় জ্ঞান, সম্প্রদায়-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই।