সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির বাতাসের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। ‘ভীষণ খারাপ’ পর্যায়েই রইল মাত্রা। শুক্রবার সকাল আটটার সময় একিউআই ধরা পড়ল ৩৮৪! বেশ কিছু অঞ্চলে একিউআই চারশো ছাড়িয়েছে। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও বিজেপি নেত্রী কিরণ বেদি এক্স হ্যান্ডলে একাধিক পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতি কোভিডের সঙ্গে তুলনীয়! এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হস্তক্ষেপের আর্জি জানালেন তিনি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে লিখেছেন, ‘এটা যন্ত্রণাদায়ক। এবং হতাশাজনক। স্যার, দয়া করে হস্তক্ষেপ করুন। আমি রয়েছি ইন্দিরাপুরমে। এখানে একিউআই ৫৮৭। শিক্ষকদের মেসেজ সত্ত্বেও বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারিনি। প্রিন্সিপালকে বিস্তারিত লিখেছি। আমার ক্ষমতায় যতটা হবে, সবটা করব।’
পরে সংবাদ সংস্থা পিটিআই তাঁকে এবিষয়ে প্রশ্ন করলে কিরণ বলেন, ”পরিস্থিতি কোভিডের মতো। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি কীভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন নিজেই দেখেছি। এই পরিস্থিতি সামলাতেও ওঁর মতো যোগ্য কেউ নেই। যদি উনি সরাসরি হস্তক্ষেপ নাও করেন, তাহলেও চাইব কমিশনে অন্তত কয়েকজন মন্ত্রীকে আনা হোক। কেননা এই সমস্যা বহু রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনস্বাস্থ্যকে বিপণ্ণ করছে।” তিনি জানিয়েছেন হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পাঞ্জাব, রাজস্থানের মতো একাধিক রাজ্যে এই বিশ্রী পরিস্থিতি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, দিল্লির মুন্ডকায় শুক্রবার সকালে দূষণের মাত্রা ৪৩৬। রোহিণীতে ৪৩২। অন্যদিকে আনন্দ বিহার (৪০৮) ও জাহাঙ্গিরপুরীর (৪২০) দূষণের মাত্রাও রয়েছে চারশোর উপরে।
প্রসঙ্গত, দীপাবলির পর থেকেই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির বাতাস। তাই ‘ক্লাউড সিডিং’-এর ব্যবস্থা করেছিল দিল্লি সরকার। সম্প্রতি তার ট্রায়ালও হয়। কিন্তু বৃষ্টি হয়েছে না-হওয়ার-মতো। অথচ ইতিমধ্যেই তিনটি ব্যর্থ ট্রায়াল বাবদ প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। বরং লাফিয়ে বাড়ছে দূষণ।