বিপর্যয় মোকাবিলায় কেন্দ্রের কাছে বাংলার বকেয়া ৫৩,৬৯৬ কোটি, সংসদীয় কমিটিতে সরব তৃণমূল
প্রতিদিন | ২৮ নভেম্বর ২০২৫
নন্দিতা রায়, নয়াদিল্লি: বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বাংলার বকেয়া নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে সরব রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার সংসদের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত আলোচনায় সময়ে বাংলার প্রতি বঞ্চনা এবং বাংলার প্রাপ্য টাকা কেন্দ্র সরকার আটকে রাখার প্রতিবাদে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। সূত্রের খবর, বৈঠকে কমিটি সদস্য তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে দেশের অন্যান্য রাজ্যের বকেয়া কত রয়েছে সেই প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি, একই খাতে রাজ্যের বকেয়ার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিগত চার বছরে রাজ্যে বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং তার ফলে রাজ্যের বকেয়ার বিস্তারিত যে পরিসংখ্যান ডেরেক তুলে ধরেছেন তাতে তার মোট অঙ্ক ৫৩,৬৯৬ কোটি টাকা। আরও জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালের সাইক্লোন ‘বুলবুল’ থেকে ২০২৪ সালের সাইক্লোন ‘ডানা’ পর্যন্ত বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বাংলার কেন্দ্রের কাছে বিপুল বকেয়া রয়েছে। সেই তালিকায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকা খাতে রাজ্যের বকেয়ার অঙ্ক ৪০৯ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে সাইক্লোন বুলবুলের জন্য যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের বকেয়ার অঙ্ক ৬৫১৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মে মাসের আমফান সুপার সাইক্লোনের জন্য এসডিআরএফ খাতে রাজ্যের বকেয়া ৩২,৭৬৮ কোটি টাকা। ২০২১ সালের মে মাসে সাইক্লোন ইয়াসের জন্য এসডিআরএফে বাংলার বকেয়া ৪,২২২ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে হওয়া ডানার জন্য রাজ্যের ১,৬৮৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বন্যা, ভূমিক্ষয় এবং ধ্বসের খাতে রাজ্যের বকেয়ার অঙ্ক ৪,২৩৩ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২১ সালে জুলাই এবং সেপ্টেম্বরে উত্তরবঙ্গে বন্যার জন্য রাজ্যের বকেয়ার অঙ্ক ১,২২৮ কোটি এবং ১৪০২ কোটি টাকা তুলে ধরা হয়েছে সে কথাও। সূত্রের খবর, বিপর্যয় মোকাবিলা খাতে বাংলার বকেয়া পড়ে থাকা মোট ৫৩,৬৯৬ কোটি টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভাবনা, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত জানতে চান তৃণমূল সাংসদ। এদিনের বৈঠকে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, কেরল, হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যকে ডাকা হলেও, পশ্চিমবঙ্গকে ডাকা হয়নি। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির কয়েকজন মুখ্যসচিব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। সূত্রের খবর, ডেরেকের দেওয়া তথ্য পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের থেকে জবাব চান চেয়ারম্যান রাধামোহন দাস আগরওয়াল। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকরদের বলা হয়, প্রয়োজনে ৭ থেকে ১০ দিন সময় নিয়ে সমস্ত তথ্য জোগাড় করে জবাব দিতে হবে। এমনকী, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের যখন বৈঠক হবে, সেই বৈঠকেও জবাব দেওয়া যাবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তাদের জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।