• ‘মনে হচ্ছে যেন কোভিড চলছে’, দিল্লির দূষণ নিয়ে তোপ কিরণ বেদির, মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি
    এই সময় | ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • দিল্লির এক হাসপাতালের বেডে পাশাপাশি শুয়ে আছেন দু’জন রোগী। একজনের মুখে অক্সিজেন মাস্ক। পাশের জনের হাতে ব্যান্ডেজ। ব্যান্ডেজ বাঁধা রোগী বলছেন, ‘আমিও বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নিতে চেয়েছিলাম।’ ডাউন টু আর্থ পত্রিকার এই কার্টুন শেয়ার করে দিল্লির দূষণ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন প্রাক্তন আইপিএস কিরণ বেদি। তাঁর কথায়, ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যেন কোভিড চলছে।’ এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি।

    দিল্লির বাতাসে শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে উঠেছে। এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স পৌঁছে গিয়েছে ৪৫৮-তে। অর্থাৎ, অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রা। দূষণের প্রতিবাদে গত কয়েক দিনে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে যোগ সমাজের সব স্তরের মানুষই। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের উপরে পুলিশি জুলুমের অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। এক বিক্ষোভকারীকে রাজপথে চেপে ধরারও অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন রাজধানীর স্থানীয় বাসিন্দারা।

    দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ করেছে দিল্লির বিজেপি সরকার। ক্লাউড সিডিং করে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর চেষ্টাও হয়েছে। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। দিল্লির দূষণ যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ কিরণ। গত কয়েক দিনে ধরে একাধিক পোস্ট করেছেন তিনি। একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘খুব হতাশাজনক। সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছি। নিজের ক্ষমতায় যা কুলোচ্ছে, করছি।’ এর পরেই মোদীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্যর, দয়া করে হস্তক্ষেপ করুন।’

    কিরণের অভিযোগ, দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণে একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলার হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কমিটিও রয়েছে। কিন্তু আসল কথা হলো, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ও পাঞ্জাবের মধ্যে সমন্বয়। এই বিষয়টা অবসরপ্রাপ্ত কোনও আমলার হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না।’

    এর পরেই দিল্লির দূষণকে কোভিডের সঙ্গে তুলনা করে কিরণ লেখেন, ‘পরিস্থিতি অনেকটা কোভিডের মতো। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী দক্ষ হাতে দেশকে সামলেছিলেন। এখনও তাঁর সক্রিয় পদক্ষেপ দরকার। তিনি যদি সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে না-ও চান, তাহলে মন্ত্রীদের নিয়ে একটা কমিশন তৈরি করে দেওয়া উচিত। বিষয়টা বহু রাজ্যের মানুষের জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত। দূষণ কখনও বাড়ে, কখনও কমে। দিল্লির প্রত্যেক মানুষের ক্ষতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

  • Link to this news (এই সময়)