সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কর্নাটকে দড়ি টানাটানির মাঝেই এবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী পদের প্রধান দাবিদার ডিকে শিবকুমার (D.K. Shivakumar)। জল্পনা শুরু হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন নিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তবে যাবতীয় জল্পনা উড়িয়ে বৃহস্পতিবার শিবকুমার জানালেন, তাঁর কোনও তাড়া নেই। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সম্প্রতি শিবকুমারকে হোয়াটসঅ্যাপে পরামর্শ দিয়েছিলেন কিছুদিন অপেক্ষা করার।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মুম্বই গিয়েছিলেন শিবকুমার। সেখানে এই ক্ষমতা পরিবর্তন নিয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে তাঁর। এমনকী খোদ মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। জল্পনা চরম আকার নিতেই বৃহস্পতিবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন শিবকুমার। বলেন, “আমার কোনও কিছুতেই বিশেষ তাড়া নেই।” পাশাপাশি আরও জানান, “মুম্বই সফরে আমি কোনও দলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি। যদি এই বিষয়ে কোনওরকম আলোচনা হয় তবে সেটা বেঙ্গালুরু কিংবা দিল্লিতে হবে, মুম্বইয়ে নয়।”
দু’বছর আগে বিপুল জনাদেশ নিয়ে কর্নাটকে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে আড়াআড়ি ভাগ হয় দুই শিবির। একদিকে প্রবীণ নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। কিন্তু সকলেই একবাক্যে মেনে নেন, কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফিরে আসার পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয় সিদ্দারামাইয়াকে। শোনা যায়, সেই সময় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছিল আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার। সেই আড়াই বছর পূর্ণ হয়েছে বর্তমান কর্নাটক সরকারের। এদিকে সিদ্দারামাইয়া জানিয়ে দিয়েছেন তিনি সরতে রাজি নন। পুরো ৫ বছর পদে থাকবেন তিনি। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে।
এদিকে দলীয় সূত্রে খবর, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দলীয় বিষয়ে কথা বলার জন্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন শিবকুমার (D.K. Shivakumar)। যদিও কোনওভাবে যোগাযোগ করে উঠতে পারেননি তিনি। এহেন পরিস্থিতিতে খোদ রাহুল গান্ধীর তরফে শিবকুমারের ফোনে আসে ছোট্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা। যেখানে লেখা, ‘অপেক্ষা করুন, আমি আপনাকে শীঘ্রই ফোন করছি।’ রাজনৈতিক মহলের দাবি, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভা অধিবেশন। তার আগেই কর্নাটক মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে চলতে থাকা টানাপোড়েন শেষ করতে চান দিল্লির নেতৃত্ব। তাঁরই আভাস দেওয়া হয়েছে শিবকুমারকে। এহেন পরিস্থিতির মাঝে শিবকুমারের এই বার্তা নিশ্চিতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।