সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির দূষণ নিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, চোখের সামনে শিশুরা বিষাক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। তা দেখেও প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi) কেন চুপ? উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালেই আইপিএস অফিসার ও বিজেপি নেত্রী কিরণ বেদি বলেন, রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতি কোভিডের সঙ্গে তুলনীয়।
দিল্লির মুন্ডকায় শুক্রবার সকালে দূষণের মাত্রা ৪৩৬। রোহিণীতে ৪৩২। অন্যদিকে আনন্দ বিহার (৪০৮) ও জাহাঙ্গিরপুরীর (৪২০) দূষণের মাত্রাও রয়েছে চারশোর উপরে। এহেন পরিস্থিতিতে দিল্লির বেশ কয়েকজন মহিলার সঙ্গে দেখা করেন রাহুল। সেই সাক্ষাতের ভিডিও পোস্ট করে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘আমি যত মায়েদের সঙ্গে কথা বলেছি সকলের একটাই বক্তব্য, তাঁদের সন্তানরা বিষাক্ত বাতাস নিয়ে বড় হচ্ছে। মোদিজি, ভারতের সন্তানরা আমাদের চোখের সামনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও আপনি কী করে চুপ থাকেন? আপনার সরকার কেন দায়িত্ব নেয় না? কেন দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করে না?’ রাহুল সাফ জানিয়েছেন, পরিষ্কার বাতাসটুকু ভারতের খুদেদের প্রাপ্য।
উল্লেখ্য, দিল্লি দূষণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন বিজেপি নেত্রী কিরণ বেদিও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, ‘এটা যন্ত্রণাদায়ক। এবং হতাশাজনক। স্যার, দয়া করে হস্তক্ষেপ করুন।’ তিনি আরও বলেন, ”পরিস্থিতি কোভিডের মতো। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি কীভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন নিজেই দেখেছি। এই পরিস্থিতি সামলাতেও ওঁর মতো যোগ্য কেউ নেই। যদি উনি সরাসরি হস্তক্ষেপ নাও করেন, তাহলেও চাইব কমিশনে অন্তত কয়েকজন মন্ত্রীকে আনা হোক। কেননা এই সমস্যা বহু রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং জনস্বাস্থ্যকে বিপণ্ণ করছে।”
প্রসঙ্গত, দীপাবলির পর থেকেই বিষাক্ত হয়ে উঠেছে দিল্লির বাতাস। তাই ‘ক্লাউড সিডিং’-এর ব্যবস্থা করেছিল দিল্লি সরকার। সম্প্রতি তার ট্রায়ালও হয়। কিন্তু বৃষ্টি হয়েছে না-হওয়ার-মতো। অথচ ইতিমধ্যেই তিনটি ব্যর্থ ট্রায়াল বাবদ প্রায় ১.০৭ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। বরং লাফিয়ে বাড়ছে দূষণ।