বিক্রম রায়, কোচবিহার: স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের ঘটনায় এবার পুলিশের জালে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতার গাড়িচালক। ধৃতের নাম গোবিন্দ সরকার। তাঁর বাড়ি কোচবিহার ২ নম্বর ব্লকের কাকড়িবাড়ি এলাকায়। বিধাননগরের সল্টলেকের দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা নামে এক ব্যক্তি খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছেন তদন্তকারীরা।
নিহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিলা। তিনি আদতে পশ্চিম মেদিনীপুরের নীলদা পোস্টঅফিস এলাকার দিলামাটিয়ার বাসিন্দা। সল্টলেকের দত্তাবাদে সোনার গয়নার দোকান রয়েছে তাঁর। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, গত ২৮ অক্টোবর দোকান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তারপরই নিউটাউনের যাত্রাগাছির বাগজোলা খালপাড় এলাকার ঝোপ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ছবি দেখে পরিবার দেহ শনাক্ত করে। পরিবারের দাবি, অপহরণ করে খুন করা হয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে।
স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কুমিল্যা খুনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সজল সরকারকে দিন কয়েক আগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। পাশাপাশি কোচবিহার ২ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সজল সরকারের গাড়ির চালক গোবিন্দ সরকার। তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে খবর। পুলিশ তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাতে থাকে। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতে শেষপর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। অসম-বাংলা সীমান্তের বক্সিরহাট এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। বিধান নগর থানার পুলিশ স্থানীয় বক্সিরহাট থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই অভিযান চালায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত সজলের গাড়িচালক হলেও তিনি ওই তৃণমূল নেতার অত্যন্ত বিশ্বস্ত বলে খবর। চালককে জেরা করে একাধিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। আজ, শুক্রবার ধৃতকে তুফানগঞ্জ মহকুমা দায়রা আদালতে তোলা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে বিধাননগরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে খবর।