• এসআইআর-‘চাপে’ আবার মৃত্যু, চলছে প্রতিবাদ, সহায়তাও
    আনন্দবাজার | ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে (এসআইআর) কেন্দ্র করে মৃত্যু, বুথ লেভল অফিসারদের (বিএলও) অসুস্থতার অভিযোগ অব্যাহত। এই আবহে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিক-সহায়তার পাশাপাশি প্রতিবাদ-কর্মসূচিও চালাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এরই মধ্যে ‘অনিয়মে’র অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর ‘সাফল্য’ নিয়ে বৃহস্পতিবার ফের সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

    এসআইআর-‘আতঙ্কে’ মেদিনীপুরের বাসিন্দা শ্যামল বসু (৭২) নামে এক জনের বুধবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একদা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী শ্যামল বাম আমলে ‘সন্ত্রাসে’র আবহে তাঁর আদি-বাড়ি কেশপুর ছেড়ে মেদিনীপুরে এসেছিলেন। শ্যামলের ছেলে সনতের দাবি, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না-থাকায় চিন্তায় ছিলেন বাবা। একই দাবি তৃণমূল কংগ্রেসেরও। বিজেপির দাবি, তৃণমূল মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে।

    এসআইআর-এর ‘কাজের চাপে’ বাঁকুড়ার বড়জোড়ার কমলকুমার বিশ্বাস ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার দেবাশিস দাস নামে দুই বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পরিবারের অভিযোগ। কমলের হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে। বিডিও (বড়জোড়া) চিরঞ্জিত বাগালি বলেছেন, “ওই বিএলও ৯৫% কাজ করেছেন। বাকি কাজ সুপারভাইজ়ার করবেন।” এসএসকেএম-এ চিকিৎসা চলছে দেবাশিসের। তাঁর বাড়িতে এ দিন গিয়েছিলেন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে এসআইআর-এর কাজ করার সময়ে ‘চাপে’ মাথা ঘুরে পড়ে জখম হয়েছেন বিএলও চিরঞ্জীব মজুমদার।

    এই পরিস্থিতিতে এসআইআর-প্রক্রিয়ার ‘সাফল্য’ নিয়ে সন্দিহান বিরোধী নেতা শুভেন্দু। নন্দীগ্রামে তাঁর দাবি, “রাজ্যে এসআইআর সফল না-ও হতে পারে। যা শুনছি, ইআরও, এইআরও-দের একাংশ অমুকের বাবার সঙ্গে অন্য জনের ‘লিঙ্ক’ করিয়ে এসআইআর দেখানোর চেষ্টা করছেন! তবে আমরাও ছাড়ার লোক নই!”

    এসআইআর-কে কেন্দ্র করে নাগরিক-সহায়তা ও প্রতিবাদ, দুই-ই অব্যাহত। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের বক্তব্য, “কমিশন কী চায়, তা আমরা জানি। নতুন করে পর্যালোচনায় যেতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য, গণনা-পত্র ১০০% জমা করা। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে মানুষকে সহায়তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।” গণনা-পত্র পূরণ পর্বের মতো খসড়া তালিকা প্রকাশের পরে আবেদন-পর্বেও দলের তরফে সহায়তার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিপিএম। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী আত্মপ্রচারে ব্যস্ত। ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকার পরে আবেদন, শুনানি-পর্বে কর্মীরা মানুষকে সহযোগিতা করতে তৈরি।” ধর্ম বা অন্য পরিচয় নির্বিশেষে, নথি না-থাকা লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলে সেলিমের দাবি, “এসআইআর-এর দরকার ছিল না। প্রতি বছর সংশোধনের সময়ে মৃত ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়া যেত। এখন তৃণমূল, বিজেপি ভয় ছড়াচ্ছে।”

    ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ এসআইআর ও রাজ্যে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগে বহরমপুরে এ দিন মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের ডাকে প্রতিবাদ-সভায় যোগ দিয়েছিলেন দলের নেতা অধীর চৌধুরী, মনোজ চক্রবর্তী প্রমুখ। অধীরের তোপ, “ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে প্রথম মানুষকে সচেতন করেছেন রাহুল গান্ধী। কেরল, তামিলনাড়ুতে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয়েছে। কিন্তু আপনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এখানে এসআইআর করার অনুমতি দিলেন কেন? রাজ্যের আধিকারিক, কর্মীরাই এসআইআর করছেন।” এসআইআর বন্ধ ও আতঙ্কে মৃতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের সামনে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ মিছিল করেছে এসইউসি। দেওয়া হয়েছে দাবিপত্রও।

    এরই মধ্যে মালদহের হরিশচন্দ্রপুরে নির্দেশ মতো গণনা-পত্র পূরণ না-করায় বিএলও নিবেদিতা মণ্ডলকে হুমকি দেওয়া এবং তাঁর স্বামী কমলকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এলাকায় ‘জমি-মাফিয়া’ হিসাবে পরিচিত, স্থানীয় পঞ্চায়েতের প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য মহম্মদ কসিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে। কমল হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কংগ্রেসের দাবি, অভিযুক্ত এখন তৃণমূলে আছেন। তৃণমূল তা মানেনি। কসিমুদ্দিন পলাতক।
  • Link to this news (আনন্দবাজার)