সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ গ্রেপ্তার। অসমের গুয়াহাটি থেকে ধরা পড়ল কোচবিহার-২ ব্লকের কাকড়িবাড়ির বাসিন্দা গোবিন্দ সরকার। শুক্রবার তুফানগঞ্জ মহকুমা দায়রা আদালতে তাঁকে হাজির করানো হয়। আদালতের নির্দেশে ট্রানজিট রিমান্ডে গোবিন্দকে বিধাননগরে নিয়ে আসবে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, স্বপন কামিল্যা খুনের সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্ত গোবিন্দ। ধৃতের রাজনৈতিক পরিচিতিও সামনে এসেছে। তৃণমূলের কোচবিহারের বহিষ্কৃত নেতা সজল সরকারের গাড়ির চালক হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয় সূত্রের খবর, সজলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন গোবিন্দ। এই গ্রেপ্তারের পর মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ।
Advertisement
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ অক্টোবর। অভিযোগ, রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের উত্তরবঙ্গের বাড়ি থেকে চুরি হওয়া সোনা স্বপন কিনেছিলেন। এই সন্দেহের জেরে স্বপনকে দত্তাবাদ থেকে অপহরণ করে নিউ টাউনের ‘এবি’ ব্লকের ৬৭ নম্বর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রশান্ত ও তাঁর সহযোগীরা ব্যাপক মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরদিন, ২৯ অক্টোবর, স্বপনের দেহ উদ্ধার হয় বাগজোলা খালপাড়ের যাত্রাগাছি এলাকা থেকে। পরে ৩১ অক্টোবর নিহতের পরিবার বিধাননগর দক্ষিণ থানায় বিডিও প্রশান্ত বর্মন-সহ একাধিক জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনায় আগেই গ্রেপ্তার হয়েছে বিডিওর গাড়িচালক রাজু ঢালি এবং উত্তরবঙ্গের ঠিকাদার তুফান থাপা। পাশাপাশি, স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে সজল সরকার ও তাঁর আরও এক গাড়িচালক বিবেকানন্দ সরকারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও প্রশান্ত বর্মন আগাম জামিন পেয়েছেন। মামলার তদন্ত করছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা দপ্তর।