• 'চুপিচুপি বাঙালিদের বাদ দেওয়াই উদ্দেশ্য'? দিল্লিতে কমিশনের কাছে SIR নালিশ তৃণমূলের..
    ২৪ ঘন্টা | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভোটমুখী বাংলায় SIR। BLO-র মৃত্যু। দিল্লিতে গিয়ে এবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমারের কাছে নালিশ জানাল তৃণমূল। সাংসদ শতাব্দী রায় জানালেন, 'যে পাঁচটা প্রশ্ন আমাদের দল থেকে করা হয়েছিল, তার কোনও উত্তর ছিল না। আমরা অনেক বড় গল্প শুনেছি। যেগুলির সঙ্গে এর উত্তরের কোনও মিল নেই'। 

    SIR নিয়ে এবার আরও বড় আন্দোলনের পথে তৃণমূল। সোমবার ভার্চুয়াল বৈঠকে ১০ সাংসদকে নিয়ে একটি টিম তৈরি করেছিলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। নির্দেশ দিয়েছিলেন, 'আমরা যা যা অভিযোগ করেছি, তা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের কাছে যাবেন'। সেইমতো দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধিদল। কবে? আজ, শুক্রবার।

    কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের প্রশ্ন


    ----


    ১. SIR-র উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ভোটার যাচাই, না কি বাঙালির পরিচয় সন্দেহের মুখে ফেলা— কোনটা আসল লক্ষ্য? অনুপ্রবেশ যদি সমস্যা হয়, তা হলে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সীমান্তবর্তী ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, অরুণাচল, নাগাল্যান্ড, মণিপুর বাদ কেন? অসমেও এসআইআর না করে 'স্পেশাল রিভিশন' নামে লোকদেখানো উদ্যোগ। শুধু বাংলা কেন লক্ষ্য ? তা হলে কি ভোটার তালিকা রক্ষা নয়, চুপিচুপি বাঙালিদের বাদ দেওয়াই উদ্দেশ্য?

    ২. যে ভোটার তালিকা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সেই তালিকাতেই গত বছর লোকসভা ভোট হয়েছে। তার পর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনও হয়েছে। মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছেন। এক বছরের মধ্যে সেই তালিকা কী ভাবে ‘অবিশ্বাস্য’ হয়ে উঠল? যদি সত্যিই তালিকা অবিশ্বাস্য হয়, তা হলে সেই ‘অবিশ্বাস্য’ ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত লোকসভা ভাঙা হবে না কেন ?

    ৩. SIR-র কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে বহু BLO-র মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। কোথাও আত্মহত্যার অভিযোগ, কোথাও অমানবিক কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু। এই মৃত্যুর দায় কার? নির্বাচন কমিশনের, না কি মুগ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ? পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণহীন অবস্থায়, অমানবিক সময়সীমার চাপে তাঁদের মাঠে নামানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মৃত্যু কি এড়ানো যেত না ?

    ৪. SIR-র নিরপেক্ষতা নিয়ে তৃণমূল বারবার প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু কমিশনের তরফে কোনও স্পষ্ট জবাব মেলেনি। উলটে বিজেপির অভিযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নজির সামনে এসেছে। বাইরের বুথ থেকে বিএলএ নিয়োগ, বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কর্মীদের বাদ দেওয়া— এসব কি পক্ষপাতের ইঙ্গিত নয়? এতে কি কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধিকারই প্রশ্নের মুখে ?

    ৫. বিহারে আচরণবিধি প্রয়োগে হঠাৎ কড়াকড়ির অভিযোগ উঠেছিল। দলগুলির দাবি, তা বিজেপির সুবিধার জন্য। বাংলায় বিজেপি নেতাদের দাবি, প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়বে। নির্বাচন কমিশন এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি। ভয়ের বাতাবরণ তৈরির এই প্রচারে কমিশনের নীরবতা কি তা হলে অস্বাভাবিক নয়? এক দলকে সুবিধা দিতে কি কমিশন নীতিনির্ধারণ বদলাচ্ছে ?

    বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যের কটাক্ষ, 'SIR বন্ধ করে দিক। আমি চ্য়ালেঞ্জ করছি। ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, যত কেন্দ্রীয় এজেন্সি আছে,যেগুলিকে তৃণমূল ভয় পায়। সবকটি দরজা তালা লাগিয়ে দিক। ২০২৫ সালের তালিকায় নির্বাচন হোক, তারপরেও তৃণমূল হারবে। তৃণমূল হেরে গিয়েছে, তৃণমূল হারছে, তৃণমূল হারতে চলেছে'।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)