• মোদিরাজ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএলওর মৃত্যু! SIR-এর কাজের চাপ, সরব বিরোধীরা
    প্রতিদিন | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এসআইআর আবহে পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মানুষের অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে রয়েছে বহু বিএলও। কাজের চাপে আত্মহত্যার মত ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি একই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশেও। এবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএলওর মৃত্যু হল খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য গুজরাটে। বিরোধীদের দাবি কাজের চাপ নিতে না পেরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যদিও এসআইআর-এর সঙ্গে এই মৃত্যুর যোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

    গুজরাটের মেহসানা জেলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলাকালীন এক বুথ লেভেল অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। মৃত বিএলও একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন বলে জানা বগিয়েছে। শুক্রবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। বিরোধী দল কংগ্রেস এবং শিক্ষক ইউনিয়ন ওই বিএলও-এর মৃত্যুর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবকে দায়ী করলেও, পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    সাতলাসানা থানার সাব ইন্সপেক্টর উদয়সিংহ জালা বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় সুদাসানা গ্রামের বাসিন্দা দিনেশ রাভালের। তিনি গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। সম্প্রতি তাকে এসআইআরের কাজের জন্য বিএলও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। জালা আরও বলেন, ‘বাড়িতেই তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ার পরে রাভালকে ভাদনগরের একটি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিবার বা সহকর্মীরা এখনও পর্যন্ত কারোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি।”

    যদিও, কংগ্রেস মুখপাত্র মনীশ দোশির অভিযোগ, বিএলওদের উপর নির্ধারিত কাজ সময়মতো শেষ করার জন্য চাপ রয়েছে। সেই কারণেই এই ধরণের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, গুজরাট রাজ্য প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দিগ্বিজয়সিংহ জাদেজা বলেন, অন্যান্য শিক্ষকরা তাঁকে জানিয়েছেন, বিএলও হিসেবে কাজের চাপের কারণে রাভাল মানসিক চাপে ছিলেন। জাদেজা বলেন, “আমি সরকারকে বিকল্প খুঁজে বের করার জন্য অনুরোধ করছি কারণ বিএলও হিসেবে নিযুক্ত শিক্ষকরা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থাকেন। তাদের শিক্ষক হিসেবে এবং সারা বছর বিএলও হিসেবেও কাজ করতে হয়। কেউ কেউ কাজ শেষ করার জন্য রাত জেগে কাজ করছেন।”

    প্রসঙ্গত, ২০ নভেম্বর গুজরাটের খেড়া জেলায় ব্লক লেভেল অফিসার হিসেবে কর্মরত স্কুল শিক্ষক রমেশভাই পারমারের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবার দাবি করে, এসআইআরের “অতিরিক্ত কাজের চাপে”ই এই ঘটনা ঘটেছে। পরের দিন, গুজরাটের গির সোমনাথ জেলার বিএলও স্কুল শিক্ষক অরবিন্দ ভাধের আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। এসআইআরের চাপের কথা তিনি সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়। 

    অন্যদিকে, শুক্রবার চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন উত্তরপ্রদেশে। তাঁদের বিরুদ্ধে লো-কে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাগ্রাম থানা এলাকায় এসআইআরের কাজ করা বিএলও-দের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্টেশন অফিসার জানিয়েছেন, “বৃহস্পতিবার সালেমপুর আচাকা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বিএলওদের তর্ক হয়।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)