• ‘সোনিয়া গান্ধীও ক্ষমতা ত্যাগ করেছিলেন’, সিদ্দার উপস্থিতিতেই ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ বধ শিবের
    প্রতিদিন | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ঝোপ বুঝে কোপ মারলেন কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার! মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে কোন্দলের মাঝেই সোনিয়া গান্ধীর উদাহরণ টেনে ইঙ্গিতে সিদ্দারামাইয়াকে বুঝিয়ে দিলেন এবার ক্ষমতা ছাড়ার সময় রয়েছে তাঁর। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে ২০০৪ সালের অতীত মনে করিয়ে শিবকুমার বললেন, ”সোনিয়া গান্ধীর কাছেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ ছিল। তবে সে সুযোগ তিনি গ্রহন করেননি, আত্মত্যাগ করেছিলেন।” সবমিলিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন শিবকুমার।

    শুক্রবার বেঙ্গালুরুতে এক সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ডিকে শিবকুমার। এই অনুষ্ঠানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিবকুমার বলেন, “২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর, যখন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালাম সোনিয়া গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বদলে বরং মনমোহন সিংকে সেই প্রস্তাব দেন। তিনি পেশায় অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ। তাঁর মনে হয়েছিল দেশের উন্নয়নের লক্ষে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি তিনিই। তাঁর মাধ্যমেই আশা কর্মীদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। এদিকে প্রধানমন্ত্রী পদ ছেড়ে সোনিয়া গান্ধী নিজে ২০ বছর ধরে কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।”

    শিবকুমারের এই বক্তব্যের সময় তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। ফলে রাজনৈতিক মহলের দাবি, আসলে সোনিয়ার উদাহরণ টেনে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন শিবকুমার। একদিকে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সিদ্দারামাইয়াকে বুঝিয়ে দিলেন, বরিষ্ঠ নেতা হিসেবে তাঁর সোনিয়া গান্ধীর থেকে কিছু শেখার উচিত। অন্যদিকে, সোনিয়া গান্ধীর সেই ত্যাগের কথা তুলে ধরে গান্ধী পরিবারের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রদর্শন করলেন শিবকুমার।

    উল্লেখ্য, দু’বছর আগে বিপুল জনাদেশ নিয়ে কর্নাটকে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে আড়াআড়ি ভাগ হয় দুই শিবির। একদিকে প্রবীণ নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। অন্যদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। কিন্তু সকলেই একবাক্যে মেনে নেন, কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফিরে আসার পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম। তারপরেও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয় সিদ্দারামাইয়াকে। শোনা যায়, সেই সময় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছিল আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন সিদ্দারামাইয়া ও শিবকুমার। সেই আড়াই বছর পূর্ণ হয়েছে বর্তমান কর্নাটক সরকারের। এদিকে সিদ্দারামাইয়া জানিয়ে দিয়েছেন তিনি সরতে রাজি নন। পুরো ৫ বছর পদে থাকবেন তিনি। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার নিয়েছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)