জ্যোতি চক্রবর্তী, বনগাঁ: গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওরকে। সেই ঘটনায় ধৃতদের দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সাজা শোনাল আদালত। আজ, শুক্রবার বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট এই রায় দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই খুনের ঘটনা ঘটেছিল ২০২২ সালের ৮ এপ্রিল। মৃতের নাম ইতু সেন। বনগাঁ মহকুমা আদালতের আইনজীবী সমীরকুমার ঘোষ জানান, মছলন্দপুর বাসিন্দা ইতু সেন ওরফে প্রিয়ার সঙ্গে আইনজীবী রথীন্দ্রনাথ সেনের বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ, ২০২২ সালে ওই গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতনের পর খুন করেন রথীন সেন ও তাঁর ভাই রজত সেন, বাবা রবীন্দ্রনাথ সেন ও মা সুপ্তা সেন। মৃত গৃহবধূর মা মমতা বিশ্বাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েই পুলিশ শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বনগাঁ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন এলাকায় সপরিবারে থাকতেন আইনজীবী রথীন সেন। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মছলন্দপুরের বাসিন্দা ইতু সেনের। ওই বধূর উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হত বলে অভিযোগ। ২০২২ সালের ৮ এপ্রিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন ওই বধূকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে তাঁরাই ওই বধূকে অচৈতন্য অবস্থায় বনগাঁর হাসপাতালে ফেলে যান! ওই দিনই মৃত্যু হয় গৃহবধূর।
ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভ ছড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে। খবর দেওয়া হয় বনগাঁ থানায়। স্থানীয়রাই ওই পরিবারের সদস্যদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মৃতার মা মমতা বিশ্বাস লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে শুরু হয় তদন্ত। বনগাঁ মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে শুরু হয় শুনানি। প্রায় তিনবছর মামলা চলে। ১৪ জন সাক্ষী দেন এই মামলার শুনানিতে। বিচারক কল্লোল দাস অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করে এদিন যাবজ্জীবন সাজা শুনিয়েছেন। রায় শুনে কেঁদে ফেলেছেন মা মমতা বিশ্বাস। তিনি বলেন, “আর কিছু বলার ভাষা নেই। আদালতের রায়ে আমি খুশি।”