হাপুর (উত্তরপ্রদেশ): চিতায় শোয়ানো দেহ। উপর থেকে কাপড় ঢাকা। ঘি, ধূপ, ধুনো সহ যাবতীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত। কিন্তু চিতায় আগুন ধরানোর আগেই ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস! শবদাহ করতে আসা ব্যক্তিদের আচার আচরণে সন্দেহ হয় শ্মশানে কর্মরত পুরসভা কর্মীর। শবের উপরে ঢাকা কাপড় সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ তাঁর। মরদেহ নয়, চিতায় শোয়ানো রয়েছে আস্ত একটি পুতুল। আরে, এমন পুতুল তো পোশাকের দোকানে সাজানো থাকে! তাজ্জব কাণ্ড দেখে পুর কর্তৃপক্ষকে খবর দেন ওই শ্মশানকর্মী। আসে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় দু’জনকে। তাঁদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শুক্রবার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুই ব্যক্তি আদতে দিল্লির পোশাক ব্যবসায়ী। দেনার দায় থেকে মুক্তি পেতে জীবন বিমার টাকা হাতানোর ছক কষেছিলেন তাঁরা। আর সেই কারণেই পুতুলকে মরদেহ সাজিয়ে উত্তরপ্রদেশের হাপুরে চলে আসেন তাঁরা। কিন্তু শ্মশানকর্মীর তৎপরতায় দুই ব্যবসায়ীর ঠাঁই হয়েছে শ্রীঘরে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, ৫০ লক্ষ টাকা দেনার দায় থেকে রেহাই পেতে প্রতারণার মাধ্যমে বিমার টাকা হাতানোর ছক কষা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই হরিয়ানার নম্বর প্লেট লাগানো একটি গাড়িতে বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে হাপুরের ব্রিজঘাট শ্মশানে আসেন মোট চারজন। সেই গাড়িতেই পুতুলকে শবদেহ সাজিয়ে আনা হয়েছিল। সঙ্গে ছিল সৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সরঞ্জাম। কিন্তু সন্দেহজনক আচরণের কারণে শ্মশানের পুরকর্মী নীতিনের চোখে পড়ে যান তাঁরা। চিতায় আগুন দেওয়ার আগেই তাঁদের চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দু’জনের নাম কামাল সোমানি ও তাঁর সহযোগী আশিস খুরানা। দু’জনেই দিল্লির উত্তম নগরের জৈন কলোনির বাসিন্দা। তাঁরা গ্রেফতার হলেও সঙ্গে আসা আরও দু’জন পালাতে সক্ষম হয়। জেরার মুখে পড়ে পোশাক ব্যবসায়ী সোমানি জানিয়েছেন, মাথায় ৫০ লক্ষের দেনা। তাই দীর্ঘদিন হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। মুক্তি পেতেই প্রতারণার মাধ্যমে বিমার টাকা হাতানোর এই পরিকল্পনা করেছিলেন সোমানি। প্রথমে কিছু কাজকর্মের অছিলায় নীরজ নামে এক কর্মীর ভাই অংশুলের আধার ও প্যান কার্ড হাতান তিনি। সেই নথিগুলির মাধ্যমে এক বছর আগে অংশুলের নামেই জীবন বিমা করেন। সার্কেল অফিসার স্তুতি সিং বলেন, পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই এই এক বছর ধরে নিয়ম করে বিমার কিস্তি দিয়ে গিয়েছেন সোমানি। দিল্লির এই পোশাক ব্যবসায়ীর ছক ছিল, অংশুলকে বাইরে কোথাও পাঠিয়ে পুতুল দাহ করে তাঁর নামে পুরসভা থেকে ডেথ সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া। সেই সার্টিফিকেটের মাধ্যমেই জীবন বিমার টাকা হাতানোর চেষ্টায় ছিলেন ধৃত সোমানি। দিল্লির এই পোশাক ব্যবসায়ীর ফোন ব্যবহার করে অংশুলের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল পুলিশ। সব কথা শুনে আকাশ থেকে পড়েন তিনি। অংশুল পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি প্রয়াগরাজে রয়েছেন। পুতুল দাহের মাধ্যমে তাঁর নামে এইভাবে যে ডেথ সার্টিফিকেট বের করার এই চেষ্টা চলছে, সেসম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না অংশুলের। সার্কেল অফিসার সিং জানিয়েছেন, বিমা প্রতারণার চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। শ্মশান থেকে পালিয়ে যাওয়া বাকি দুই ব্যক্তির সন্ধানে তল্লাশি চলছে।