• পুলিশ হেপাজতে দলিত যুবকের মৃত্যু ঘিরে বেঙ্গালুরুতে উত্তেজনা
    বর্তমান | ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • বেঙ্গালুরু: পুলিশি হেপাজতে দলিত যুবকের মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে। মৃতের নাম দর্শন। বয়স ২৪ বছর। তাঁকে ফাটকের মধ্যে মারধর করার অবিযোগ উঠেছে বিবেকনগর থানার উচ্চবর্ণের পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, মারধরের ফলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে দর্শন। তাঁকে একটি রিহ্যাব সেন্টারে পাঠানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের। দর্শনের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের এবং ওই রিহ্যাব সেন্টারের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তদন্ত।

    দর্শনের মা আদিলক্ষ্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মদে আসক্তি ছিল ছেলের। ১২ নভেম্বর বাড়ির সামনে প্রতিবেশীর সঙ্গে তিনি বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে হেপাজতে নেয় বিবেকনগর থানা। ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার আবেদন করা হলেও পুলিশ তাতে কান দেয়নি। এমনকি দর্শনের সঙ্গে দেখাও করতে দেওয়া হত না। মায়ের অভিযোগ, বিবেকনগরে এএসআই পবন এবং দুই পুলিশকর্মীর মারধরের জেরে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন দর্শন। গত ১৫ নভেম্বর তাঁকে জানানো হয়, পুলিশের পক্ষ থেকে দর্শনকে ইউনিটি ফাউন্ডেশন রিহ্যাব সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে ভর্তির খরচ হিসেবে আড়াই হাজার টাকাও নেওয়া হয়। দেখা করতে না দিলেও রিহ্যাব সেন্টারের পক্ষ থেকে ছেলে সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানানো হত আদিলক্ষ্মীকে। ২৬ সেপ্টেম্বর সেন্টারের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে দর্শন মারা গিয়েছেন। তবে রিহ্যাব সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ছেলের দেহ নেই। তাঁদের স্থানীয় নীলমঙ্গলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে ছেলের নিথর দেহ দেখতে পান আদিলক্ষ্মী। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছিল দর্শনের। ছেলের বুকে, পিঠে, হাতে এবং পায়ে চোটের চিহ্ন থাকায় মায়ের সন্দেহ হয়। এরপরেই পবন, দুই পুলিশকর্মী এবং ইউনিটি ফাউন্ডেশন রিহ্যাব সেন্টার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসসি-এসটি আইনে অভিযোগ দায়ের করেছেন আদিলক্ষ্মী। তদন্ত শুরু হয়েছে।  
  • Link to this news (বর্তমান)